
দেশের বাজারে একধাপে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। আজ বৃহস্পতিবার ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একসঙ্গে একবারে এত বড় অঙ্কে এর আগে কখনও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পায়নি।
নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। দাম বাড়ার এই গতি অব্যাহত থাকলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম তিন লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে। এর আগে বুধবার ভরিপ্রতি ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা এবং মঙ্গলবার ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ, টানা দুই দিন স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির পর গত পাঁচ বছরে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়েছে। দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই প্রথমবারের মতো স্বর্ণের ভরি এক লাখ টাকা ছুঁয়েছে। এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ এবং অক্টোবর মাসে দুই লাখ টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে। চলতি বছরের গত বৃহস্পতিবার আড়াই লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করার পর আজ দাম পৌঁছেছে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়।
আজকের দফায় দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
জুয়েলার্স সমিতি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পাকা স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সাড়ে পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে বিশ্ববাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের দাম শিগগিরই প্রতি আউন্স ৭ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনজে