
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’কে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে দিয়ে আল-কায়েদা বা আইএস-এর মতো গোষ্ঠীগুলোর সমপর্যায়ে চলে এলো এই বাহিনী।
ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ইউরোপের অবস্থানে এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, দমনপীড়ন উত্তরহীন থাকতে পারে না।
যে শাসনব্যবস্থা নিজের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, তারা আসলে নিজেদের পতনের পথই প্রশস্ত করছে।
এদিকে ফ্রান্স বলেছে, তারা ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে মনোনীত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপকে সমর্থন করে। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এক বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ওপর দমন-পীড়নের সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন।
ব্যারোট এক্স-এ লিখেছেন, ‘ইরানি জনগণের শান্তিপূর্ণ বিদ্রোহে অসহনীয় দমন-পীড়ন দেখে চুপ থাকা যায় না।
তাদের ওপর যে সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা বৃথা যেতে পারে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ব্রাসেলসে এই নৃশংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তাদের ইউরোপীয় ভূখণ্ডে নিষিদ্ধ করা হবে এবং তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে। ইউরোপের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফ্রান্স সমর্থন করবে।
জার্মানির নেতৃত্বে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনের মতো দেশগুলো একমত হওয়ায় এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলেও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখা হবে।
চলতি মাসের শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ভয়াবহ দমনপীড়নের জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইয়েল বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না—এই বার্তা দেওয়া আমাদের জন্য জরুরি ছিল।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’র এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’বলে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘোষণার ফলে এখন থেকে ইউরোপে আইআরজিসি সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়া অনেক সহজ হবে। আগে নির্দিষ্ট কোনো সন্ত্রাসী হামলার প্রমাণ লাগত, কিন্তু এখন শুধু এই বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলেই তাদের বিচার বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া ইউরোপোল-এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান আরও গতিশীল হবে।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে একটি ‘কৌশলগত ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপ যখন আমাদের জাতীয় সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছে, তখন তারা আসলে এই অঞ্চলে উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের শাসনব্যবস্থা রক্ষায় আইআরজিসি গঠিত হয়। বর্তমানে এটি ইরানের অর্থনীতি এবং সামরিক খাতের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে দেশটির ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং পারমাণবিক কর্মসূচির দেখভাল করে এই বাহিনী।
সূত্র : এনডিটিভি, আলজাজিরা।
এনজে