শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ৩ দিন পর মামলা
জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২৬-০১-৩১ ০৯:০০:০৪

শেরপুরের ঝিনাইগাতিতে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম (৪২) নিহতের ঘটনার ৩ দিন পর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহত রেজাউল করিমের স্ত্রী মার্জিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় এ হত্যা মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান।
পুলিশের একটি সূত্রও মামলার তথ্যটি স্বীকার করেছেন।
তিনি জানান, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলায় নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে হত্যার ঘটনায় এই মামলা করা হয়েছে।
তবে মামলায় কে কে আসামি, সেটি তাৎক্ষণিক জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তিনি।
তবে মামলায় বিএনপির বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে শেরপুর জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪টায় জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক শহরের মাইসাহেবা মসজিদের সামনে থেকে ওই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসি গেটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শেরপুর-১ (সদর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শেরপুর জেলা সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুম প্রমুখ।
বক্তব্যে জামায়াত নেতারা বলেন, ‘রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার না করা হলে এই জেলার সব কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে। আমাদের ভাই শহীদ রেজাউলের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’
তাঁরা আরও বলেন, ‘এই বদলা নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তাহলে আমরা প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকবো। রেজাউলের মতো আমরা রক্ত দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রশাসনের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, রেজাউল হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। ভবিষ্যতের কোনও কর্মসূচিতে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শেরপুর ছাড়তে বাধ্য করা হবে।
এনজে







সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













