

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ৫ আগস্টের পর যারা ক্ষমতায় না গিয়েই দোকানে, বাজারে-ঘাটে, বাস-স্ট্যান্ড, টেম্পু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করে তারা ক্ষমতায় গেলে দেশটাকেই খেয়ে ফেলবেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারী) সকাল ১০ টায় চাঁদপুর হাসান আলী স্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১০ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়ার সমর্থনে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি চাঁদা না দেওয়ার কারণে পাথর মেরে মানুষ হত্যা করেছে, শেরপুরে জামাত নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করে নাচানাচি করেছে, ক্ষমতা যাওয়ার আগেই যারা এভাবে মানুষ হত্যা করে, তারা ক্ষমতায় গেলে তাদের কাছে আমাদের জীবন নিরাপদ হবেনা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সারা দেশের রাজধানী, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে এই রাষ্ট্র, এই দেশ এই সমাজের একটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জনগণের মাঝে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রিক্সাওয়ালা, চাওয়ালা, ফেরিওয়ালা, গাড়ি চালক, নৌকার মাঝি প্রত্যেকের মাঝেই একটা আবহ, একটা জাগরণ তৈরি হয়েছে যে, আমরা স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় অনেক দল, অনেক মার্কা দেখেছি। এবার আমরা একটা পরিবর্তন চাই।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫৪ বছরের তিনটি দল ক্ষমতায় ছিল। তারা নৈতিকতা,সুশাসন, আদর্শ, দেশ প্রেম সহ সকল ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এই তিনটি দলের কোন এমপি,মন্ত্রী, নেতা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন না যে, আমাদের শাসনকালে কোন দুর্নীতি হয় নাই, কেউ বলতে পারবে না আমরা ক্ষমতায় থাকাকালে আমরা কোন দলীয়করণ করি নাই। কেউ বলতে পারবেনা আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন বিরোধী দলের উপর জুলুম নির্যাতন করি নাই।
তিনি বলেন, যারাই যখন ক্ষমতায় ছিল দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা পরিচালিত হতে দেয় নাই। ক্ষমতাসীন দলের কর্মী হলে খুন, অপরাধ , ধর্ষণ করা সত্ত্বেও পুলিশ তাদেরকে ধরে না। ধরলেও আদালত তাদেরকে জামিন দিয়ে দেয়। অথচ শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে বিনা অপরাধি ব্যক্তিদের কে বছরের পর বছর জেলে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের দলগুলো দুর্নীতিতে বারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দুর্নীতি, ঘুষ, সুদে তারা আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, শেখ হাসিনার পিয়নেরও নাকি ৪০০ কোটি টাকা ছিল তাহলে তার কত টাকা ছিল?
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিগত ৫৪ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তাদেরকে এবার এদেশের মানুষ না বলবে, বলবে তোমাদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চাই না। বিগত সময়ে যারা ফেল করেছে এই ফেলু পার্টিকে দিয়ে দেশ চলবে না। ঐক্যবদ্ধ ১১ দল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নসারথি আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিকে আমরা ঝেটিয়ে বিদায় করে দেবো। আমরা দলীয়করণের তিল মাত্র স্থান প্রশাসনের কোন স্তরে রাখবো না। আমরা ভিন্নমতের উপর সামাজিক ন্যায় বিচার করব। আমরা তরুণ তরুণীদের জন্য সমন্বিত কারিগরি ও উৎপাদন মুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করব। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে সুদ মুক্ত, জাকাত ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা চালু করব।
চাঁদপুরবাসীকে আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, যেই আসনে ১১ দলের যেই প্রতীক থাকুক না কেন সেই প্রতিক কেই বিজয়ী করতে হবে। চাঁদপুর তিন আসনে অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার দাঁড়িপাল্লা কে বিজয়ী করতে হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ার কারণে সাদা বোরকা পরিহিত একজন মায়ের বোরকা খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএনপির ছেলেরা। তিনি বিএনপিকে হুঁশিয়ারি করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী মায়েদেরকে জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসে। যে হাত মায়েদের উপর আঘাত করবে, সে হাত নিয়ে ঘরে ফিরে যেতে পারবেন না। যে হাত ক্ষমতায় যাওয়ার আগে মায়েদের বোরকা খুলে নিতে চায় তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের কাপড় খুলে নিবে।
তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গ্রামে গ্রামে জোয়ার উঠেছে তা দেখে বন্ধু সংগঠনের মাথায় এলোমেলো হয়ে গেছে। এলোমেলো তে কোন কাজ হবে না, ৫৪ বছর দেশকে লুটেপুটে খেয়েছ, এবার শান্ত হও, দাঁড়িপাল্লা কে দেশ চালানোর সুযোগ দাও।
গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি চাঁদপুরের মানুষকে গণভোটে হ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান। এবং যারা না ভোটের ক্যাম্পেইন করছে তাদেরকে প্রতিহত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন অনেকে ভোটকেন্দ্র দখল করার পায়তারা করছে, কালো টাকা দিয়ে ভোট কেনার পাঁয়তারা করছে। তিনি সমন্বিতভাবে দখলদারকে রুখে দেওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে, সেনা সদস্যরা কাজ করবে, পুলিশের গায়ে বডি ক্যামেরা থাকবে। সাথে আপনারা সজাগ থাকলে কেউ ভোটকেন্দ্র দখল করতে পারবে না।
সর্বশেষ চাঁদপুর তিন আসনের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শাহজাহানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে চাঁদপুরবাসীকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আফসার উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং চাঁদপুর পৌর আমীর অ্যাডভোকেট শাহজাহান খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ।
বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, চাঁদপুরসহ বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। দেশের জনগন যখন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে তখন নব্য ফ্যাসিস্ট ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী অ্যাপ চালু করছে। কেউ চাঁদাবাজি, দুর্নীতি করলে আপনারা অ্যাপ এ তথ্য দিবেন। রাষ্ট্র গিয়ে তাদেরকে ধরে নিয়ে আসবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে এই অ্যাপের মাধ্যমে চোর-বাটপার, সন্ত্রাসদের এক মাসের মধ্যে নির্মূল করে দিবে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলম বলেন, লন্ডন থেকে এসে কার্ড বিক্রির ট্যাবলেট বাংলাদেশের জনগন খায়না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালেয়র জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুর প্রাকৃতিক প্রাচুর্যে সমৃদ্ধ। এই সমৃদ্ধ সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার মতো সৎ নেতা। তিনি বলেন, কোন অন্ধকার জগতের রাজারা আমাদেরকে আর অন্ধকারের দিকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুরে একটি গ্রুপ মানুষের জমি লুট করছে, নদীর বালি লুট করছে, মা বোনদের উপর হামলা করছে। এবারের নির্বাচন হবে জুলুমের বিরুদ্ধে ইনসাফের নির্বাচন। আপনারা হ্যা ভোটকে জয়যুক্ত করবেন।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার নেতা নূরে আলম, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুর রহীম পাটোয়ারী, জুলাই শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের বাবা জসীম রাজা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালেয়র জিএস মাজহারুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, চাঁদপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় মূখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলম, খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদ হোসাইন আখন, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, শ্রমিক কল্যান ফেডারেশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমীন, খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি আবল কালাম আজাদ, জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক নাছির উদ্দিন মিয়াজী, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জুবাইর হোসাইন খান, চাঁদপুর শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শেখ বেলায়েত হোসেন, চাঁদপুর শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সবুজ খান, চাঁদপুর সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সুলতান মাহমুদ, ছাত্রশিবির চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি জাকারিয়া মহিউদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুস শুক্কুর মস্তান,আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি ফারুক নঈম ,চাঁদপুর সদর উপজেলা এনসিপির আহবায়ক তামিম খান, এলডিপির সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম, চাঁদপুর শহর শিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির সাগর হোসাইন, চাঁদপুর শহর শিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ নাজমুস সাকলাইন প্রমূখ।
সমাবেশে নারী-পুরুষদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যনীয়। প্রধান অতিথি আসার পৃর্বেই হাসান আলী স্কুল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
বিএইচ