১৭ বছর মানুষ যে পরিমাণ কষ্ট পেয়েছে, তা আর হতে দেওয়া যাবে না: শিবির সভাপতি

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২৬-০১-৩১ ২০:৫৯:২৪


ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, জুলাই পরবর্তী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটাররা মুখিয়ে আছে, গত ১৭ বছর মানুষ যে পরিমাণ কষ্ট পেয়েছে, জেল খেটেছে, আঘাত পেয়েছে, বাড়িঘর ছাড়া হয়েছে তা আর হতে দেওয়া যাবে না। সবাই মিলে আমরা নতুন গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে চাই। আজ জনতা জেগেছে, কাউকে আমরা আর কোনো সুযোগ দিতে চাই না।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়ার নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন একটি দল সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। ধর্ষণে সেঞ্চুরির কাছাকাছি ইতিমধ্যে ওরা পৌঁছে গিয়েছে। তাদেরকেও উৎখাত করা হবে। সুতরাং আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাই মিলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত করতে হবে।

একটি দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তোমাদের ধোঁকাবাজি জনগণ বুঝে গেছে। এর জবাব ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে তোমরা পেয়ে যাবে। জামায়াতে ইসলামী নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। ১২ তারিখের পর ওদেরকে তা বুঝিয়ে দিতে হবে। ওই দলটি একাধিকবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা প্রচুর, জনগণ আর তাদেরকে সুযোগ দেবে না।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, চাঁদপুর-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহানা মিয়া, চাঁদপুর-৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাচনী টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভুঁইয়াসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন বলেন, আমরা এই সমাবেশ থেকে একটি বার্তা দিতে চাই, রাজনৈতিক কারণে যদি কোন সংখ্যালঘুর উপর হামলা করা হয়, তাহলে বিশেষ মানবাধিকার সেলের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ আর কখনো গোপালগঞ্জ বা বগুড়ার দিকে যাবে না, বাংলাদেশ এখন বাংলাদেশপন্থার দিকে যাবে ইনশাআল্লাহ। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী ও জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তরিকুল ইসলাম বলেন, গত দুই মাস গণভোটের হ্যাঁ এর পক্ষে কোন প্রচার প্রচারণা করে নাই। গণরোষের মুখে পড়ে এখন হ্যাঁ ভোটের কথা বলছে। ১১ দলীয় ঐক্য জোট যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে সংস্কার কার্যক্রম সফল করব ইনশাআল্লাহ। তারেক রহমানের ধানের শীষ ও বিএনপি সাপের বিষে পরিণত হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী এই সাপের বিষকে মানুষ প্রত্যাখান করবে। তারা বলছে আই হ্যাভ আ প্ল্যান আছে। কিন্তু তাদের প্ল্যান হচ্ছে ভোট কেন্দ্র দখলের প্ল্যান। হিন্দুদের ধানের শীষে ভোট দিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা নারীদের গায়ের কাপড় খুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। নারীদের উপর কোন হামলা করলে এখন থেকে প্রতিরোধ করতে হবে। আপনারা নির্বাচন কেন্দ্র পাহারা দিয়ে নিজেদের ভোট বুঝে নিবেন।

এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রার ভালুকার পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, জামায়াতে ইসলামী ভালুকা উপজেলার আমির সাইফুল্লাহ পাঠান ফজলু, এনসিপির ময়মনসিংহ জেলার সদস্য ইকরাম ইলাহি সাজ প্রমুখ।

বিএইচ