ভারতের মেঘালয় রাজ্যে একটি অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে বলে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধভাবে ‘র্যাট হোল’খনন করে ওই এলাকায় কয়লা উত্তোলনের কাজ চলছিল। সেখানে কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকার একটি কয়লাখনিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিস্ফোরণ ঘটে। রাজ্য পুলিশের ডিজিআই নোংরাং জানিয়েছেন, কয়লাখনিটি বেআইনিভাবে চলছিল বলে মনে করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের ফলে খনির মুখে ধস নামে এবং সেখান থেকে বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়।
‘র্যাট-হোল’খনি বলতে পাহাড়ের ঢালে খনন করা গভীর উল্লম্ব খাদকে বোঝায়, যেখান থেকে কয়লা ও অন্যান্য খনিজ উত্তোলনের জন্য সরু সুড়ঙ্গ বের করা হয়।
২০১৪ সালে মেঘালয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি ফেডারেল পরিবেশ আদালত র্যাট-হোল খনির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ ধরনের খননকার্যকে ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এতে পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাজ্যজুড়ে বিশেষ করে, পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় এলাকায় এই খনন পদ্ধতি এখনো ব্যাপকভাবে চালু রয়েছে।
এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলা পুলিশ প্রধান বিকাশ কুমার বলেন, বিস্ফোরণটি সম্ভবত ডিনামাইট ব্যবহারের ফলেই ঘটেছে, যদিও বিষয়টি নিয়ে আরো ফরেনসিক তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর সেখানে আগুন ধরে যায় এবং প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত গ্যাস জমে যায়।’
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা জানান, ঘটনার একটি ব্যাপক তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, তিনি এই ‘দুর্ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত’। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।
আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।’
সূত্র : আল-অ্যারাবিয়া
এনজে