দেশে বহুল প্রতিক্ষীত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা থেকে যেন আবারও ভোট দিতে বাড়ি ফেরার মানুষের ঢল নেমেছে।
খুব সকালেই মহাখালী বাস টার্মিনালে জমে ওঠে মানুষের ভিড়। কেউ অফিস থেকে ছুটি নিয়েছেন, কেউ বা নাইট শিফট শেষ করে সোজা টার্মিনালে। চোখেমুখে ক্লান্তি থাকলেও ভেতরে ভেতরে একটা তাগিদ, ভোটটা তো দিতেই হবে। বাসের জন্য অপেক্ষমাণ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মুখে সেই তাগিদ স্পষ্ট।
বাসস্ট্যান্ডে হাঁটলে চোখে পড়ে নানা পেশার মানুষ গার্মেন্টসকর্মী, দোকানদার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, এমনকি বয়স্ক নারী-পুরুষও। কারও হাতে ছোট ব্যাগ, কারও কাঁধে বড় বোঝা। কারও সঙ্গে সন্তান, কারও সঙ্গে শুধু স্মৃতির ভার।
বাস চালকেরাও ব্যস্ত। এক চালক বলেন, নির্বাচনের সময় যাত্রী বেশি থাকে। সবাই বাড়ি যেতে চায়। আমরাও চেষ্টা করি যতটা সম্ভব ট্রিপ দিতে। তার চোখে ক্লান্তি, কিন্তু মুখে গর্ব; ভোটযাত্রার অংশ হতে পারার গর্ব।
রাজধানীর ব্যস্ত জীবনে ভোট অনেক সময়ই হয়ে পড়ে দূরের বিষয়। কিন্তু নির্বাচন এলেই মানুষ বুঝিয়ে দেয় ভোট এখনো গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের চাপ, টাকার হিসাব, যাতায়াতের কষ্ট সবকিছুকে পেছনে ফেলে মানুষ ছুটে যায় নিজের কেন্দ্রে।
মহাখালী বাস টার্মিনালের ছবিতে ধরা পড়ে শুধু মানুষের ভিড় নয়, ধরা পড়ে গণতন্ত্রের এক জীবন্ত রূপ। দীর্ঘ লাইন, অপেক্ষা, ক্লান্ত মুখ সব মিলিয়ে এটি ভোটাধিকার প্রয়োগের নীরব সংগ্রাম। কোনো মিছিল নেই, নেই স্লোগান। আছে শুধু দৃঢ় সিদ্ধান্ত।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনে হয়তো ব্যালট বাক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলোর নাম কেউ জানবে না। কিন্তু তাদের এই যাত্রাই প্রমাণ করে ভোট এখনও মানুষের কাছে মূল্যবান। মহাখালী বাস টার্মিনালের ভিড় তাই শুধু যাত্রার নয়, এটি নাগরিক চেতনার ভিড়।
এই ভিড় মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্র কাগজে-কলমে নয়; গণতন্ত্র বেঁচে থাকে মানুষের পথচলায়, ঘরে ফেরার বাসে আর ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অপেক্ষায়।
এনজে