
পুঁজিবাজারে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নেগেটিভ ইকুইটি হিসাব, মার্জিন সুবিধা ব্যবহারে অনিয়ম, তথ্য গোপন ও সম্ভাব্য জালিয়াতির মতো একাধিক বিষয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে তদন্ত পরিচালনার আদেশ জারি করা হয়। বিএসইসি মনে করে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত প্রয়োজন। এমন প্রেক্ষাপটে তদন্ত কার্যক্রমে নেমেছে সংস্থাটি।
যেসব বিষয়ে হবে তদন্ত
বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তদন্তে বিশেষভাবে নয়টি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে নেগেটিভ ইকুইটি বা অবাস্তব লোকসানের সময়েও নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে কিনা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া তথ্যের মধ্যে ভুল প্রতিবেদন বা তথ্য বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে কিনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রভিশন বা নিরাপত্মা সংরক্ষণে ব্যর্থতা ছিল কিনা।
একই সঙ্গে নেগেটিভ ইকুইটি হিসাব ব্যবহার করে জাঙ্ক বা স্পেকুলেটিভ শেয়ারের লেনদেন করা হয়েছে কিনা, স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসির বিধি লঙ্ঘন করে ব্লক ও বাল্ক ট্রানজেকশন সম্পন্ন হয়েছে কিনা এসব বিষয়ও তদন্তের কার্যপরিধির আওতায় আনা হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, তদন্তে আরও দেখা হবে মার্জিন সুবিধা অনুমোদিত এক্সপোজার সীমা অতিক্রম করেছে কিনা এবং মার্জিন সংক্রান্ত শৃঙ্খলা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে কিনা। এর পাশাপাশি নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা, আইপিও আবেদন বা পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার মতো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে কিনা তাও পর্যালোচনা করা হবে।
এছাড়াও যথাযথ চুক্তি বা গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া মার্জিন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে কিনা, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য ও করপোরেট সুশাসনের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা এবং সম্ভাব্য জালিয়াতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সিইও, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের দায়দায়িত্বও তদন্ত কার্যক্রমে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তদন্ত পরিচালনায় দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব
এই তদন্ত পরিচালনার জন্য বিএসইসি দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা হলেন—কমিশনের উপপরিচালক (জেনারেল) মো. রফিকুন্নবী এবং সহকারী পরিচালক (জেনারেল) মুহাম্মদ সাদেকুর রহমান ভূঁইয়া।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তারা এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেবেন।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্ট ও মার্জিন সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে উদ্বেগের বিষয়। এসব অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে শেয়ার লেনদেন হলে তা বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পাশাপাশি বাজারের স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ ধরণের পদক্ষেপ বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরণের পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে।
এ বিষয়ে এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের সিইও আব্দুল্লাহ্ আল মাসুমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বাণিজ্য প্রতিদিনকে জানান, এ বিষয়ে আমরা এখনও কিছু জানি না। আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। তাই এ বিষয়ে ব্যক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি।
এএ