
দেশে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার ৬৮২ জন। আর গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৯৭৪ জন। এর আগে জুন প্রান্তিকের তুলনায় সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছিল ৭৩৪টি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের (হিসাব) সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৬ হাজার ৮২১টি। আর গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। সেই হিসাবে এক বছরে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪৪টি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টি। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি। সেই হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক খাতের মোট হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৫টি।
ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ
তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংক খাতের উল্লেখিত হিসাবে মোট আমানতের স্থিতি ছিল ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। আর গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ব্যাংক খাতের উল্লেখিত হিসাবে মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫৩৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৯ কোটি টাকা।
কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ জন। আর গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ জন। সেই হিসাবে ২০২৫ সালে দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ১২ হাজার ৬৮২ জন।
তথ্য মতে, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০ জন। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪ জন। সেই হিসাবে তিন মাসে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৯৭৪ জন।
কোটি টাকার অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ
এদিকে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি এসব অ্যাকাউন্টে জমা টাকার পরিমাণও বেড়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টে জমা করা টাকার পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে কোটি টাকার হিসাবে জমানো টাকার স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে কোটি টাকার হিসাবে জমানো টাকা বেড়েছে ৩৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই কোটিপতি ব্যক্তির হিসাব নয়। কারণ ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ রাখার তালিকায় ব্যক্তি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কতটি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে এক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্টও রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কোটি টাকার হিসাবও রয়েছে।
ইতিহাসে কোটিপতি হিসাবের বৃদ্ধি
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটি টাকার আমানতকারী ছিল ৫ জন, ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি।
আর ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোটি টাকা বা তার বেশি রয়েছে এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে। আর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।
চলতি ২০২৫ সালের মার্চ শেষে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি। গত বছরের জুন শেষে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি, সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতে কোটি টাকার হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি এবং গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি।
এএ