
আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিবেচনার জন্য নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ২০২৬-২০২৭ অর্থবৎসরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিকট নিজেদের এই প্রস্তাব তুলে ধরেছে দেশের সর্ববৃহৎ এক্সচেঞ্জটি।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও বর্তমানে জিরো কুপন বন্ড ব্যতীত সকল কর্পোরেট বন্ডের সুদের উপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর (যা ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরেও ৫ শতাংশ ছিলো) কর্তনের পাশাপাশি প্রচলিত হারে কর প্রদানের বিধান রয়েছে। তবে ডিএসই তালিকাভুক্ত বন্ড থেকে অর্জিত তালিকাভুক্ত বন্ড আয় বা সুদের উপর উৎসে কর কর্তনকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গন্য করার প্রস্তাব করেছে।
এক্ষেত্রে ব্যাংক, ফাইনান্স কোম্পানি ও ইনসিওরেন্স কোম্পানি ব্যতীত অন্যান্য সকল বিনিয়োগকারীর জন্য জিরো কুপন বন্ড, সুকুকসহ সকল এ্যাসেট ব্যাকড বন্ড, গ্রীন বন্ড এবং সোশ্যাল বন্ড থেকে অর্জিত সুদ আয় আগামী পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণরূপে আয়কর মুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ব্যাংক, ফাইনান্স কোম্পানি ও ইনসিওরেন্স কোম্পানি ব্যতীত অন্যান্য সকল বিনিয়োগকারীর জন্য সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও উল্লিখিত বন্ড ব্যতীত অন্যান্য কর্পোরেট বন্ড থেকে অর্জিত সুদ আয়ের উপর আগামী পাঁচ বছরের জন্য ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন এবং এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়াও স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এরূপ সকল বন্ড থেকে অর্জিত সুদ আয়-এর উপর যেকোন কর অব্যাহতি রহিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমান বিধি অনুযায়ী, যদি কোনো অনিবাসী ব্যক্তি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো মূলধনী সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর করে, তাহলে সেই লেনদেনের উপর মূলধনী লাভ নির্ধারণ করতে হবে। এই মূলধনী লাভের উপর ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য হয়। তবে ডিএসই স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ লেনদেন হতে কোন অনিবাসী কর্তৃক মূলধনী মুনাফার উপর কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব করেছে।
এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসাবে ২০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য রয়েছে। তবে ডিএসইর প্রস্তাবনায় এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত সকল প্রকার (স্টার্টআপ এবং গ্রিনফিল্ড সহ) কোম্পানিগুলোকে তাদের তালিকাভুক্তির তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণ কর অবকাশের সুযোগ প্রদানের কথা বলা হয়েছে।
কর রেয়াতের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পদ ব্যবস্থাপক বা ফান্ড ম্যানেজার কর্তৃক ইস্যুকৃত ইউনিট সার্টিফিকেট এবং মিউচুয়াল ফান্ড, ইটিএফ বা যৌথ বিনিয়োগ স্কিম ইউনিট সার্টিফিকেটে পাঁচ লাখ টাকার সীমা রয়েছে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ না করে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ হিসাবে গন্য করার সুপারিশ করা হয়েছ।
বর্তমানে আয়ের অন্যান্য উৎসের সাথে ব্যবসায়িক ক্ষতি সমন্বয়ের সুযোগ রহিত করা হয়েছ। ডিএসইর প্রস্তাবনায় অন্যান্য উৎসের আয়ের বিপরীতে ব্যবসায়িক ক্ষতি সমন্বয় করার বিধান পুনঃপ্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মূলধনী আয়ের উপর স্বাভাবিক কর হার ১৫ শতাংশ। ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজ লেনদেন হতে অর্জিত মূলধনী আয়ের উপর অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লাখ টাকা পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া। পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে মূলধনী আয়ের উপর উৎসে কর হার ৫ শতাংশ এবং এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছড়াও তালিকাভুক্ত কোম্পানি অথবা মিউচুয়াল ফান্ড বা ইউনিট ফান্ড হতে অর্জিত লভ্যাংশ আয়ের উপর উৎসে করকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসাবে বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে ডিএসই।
বিএইচ