শেরপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভিড় দেখা গেছে। এরমধ্যে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি। দীর্ঘদিন পর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরে তারা আনন্দিত।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে এবার বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাসদ (মার্কসবাদী) দলের প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (কাঁচি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এক সময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনটির হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপির প্রার্থী তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। অন্যদিকে, এ আসনের মাটিতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের আমির এবং এ আসনের পূর্বের প্রার্থী মরহুম নুরুজ্জামান বাদলের ভাই মাসুদুর রহমান মাসুদ জামায়াতের মনোয়ন নিয়ে আসনটিতে ভাগ বসিয়েছেন। আসনটিতে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির ভোটের লড়াইটা জমে উঠবে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
জেলা নির্বাচন কমিশনার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন। দুটি উপজেলায় ১৭ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন সাতজন। কেন্দ্রগুলোর মধ্যে গারো পাহাড়ি এলাকার ৩২টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
এনজে