
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা ও মনোজগৎ নির্মাণের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম।
সোমবার (৪ মে) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে (টিএসসি) ‘সত্যজিৎ রায় উৎসব’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস ঐতিহ্য পরিষদ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনের যৌথ উদ্যোগে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি সৃষ্টিশীল কাজ, হোক তা চলচ্চিত্র বা বই, মানুষের চিন্তায় গভীর পরিবর্তন বা ‘প্যারাডাইম শিফট’ ঘটাতে সক্ষম। যারা যোগাযোগ ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে যুক্ত, সমাজে মানুষের চিন্তার কাঠামো তৈরিতে তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
মন্ত্রী বলেন, উপমহাদেশের ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক চিন্তাজগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে এই ঐতিহাসিক প্রভাব যেন চিন্তার স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সত্যজিৎ রায়ের কর্মজীবন তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সত্যজিতের মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এই মূল্যবোধকে ধারণ ও চর্চা করার মাধ্যমে সমাজকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বাড়ে, চলচ্চিত্র গবেষক অধ্যাপক মঈন উদ্দিন খালেদ, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভির মোকাম্মেল, অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমেদ এবং চলচ্চিত্র বিশ্লেষক বিধান রিবেরু বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ চলচ্চিত্রপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তথ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে সত্যজিৎ রায়ের ওপর অঙ্কিত চিত্রকর্মের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেন।
বিএইচ