বোরো ধান কাটার মৌসুম ঘনিয়ে আসতেই শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয়েছে বন্য হাতির তাণ্ডব। এ বছর সেই তাণ্ডব আরও বেড়েছে। ফলে কষ্টের ফসল বাঁচাতে অনেক কৃষক পাকার আগেই আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।
উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া, নয়াবিল ও পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জমিতে আবাদ করা বোরো ধান এখন ধীরে ধীরে পাকার পথে। কোথাও পুরোপুরি পেকেছে, আবার কোথাও এখনো আধাপাকা। ঠিক এই সময়ে গহিন অরণ্য থেকে নেমে আসছে বন্য হাতির পাল। প্রতিদিন বিকেল বা সন্ধ্যার পর ধানখেতে ঢুকে তারা ফসল খেয়ে ও মাড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতি করছে।
ফসল রক্ষায় কৃষকেরা খেতের পাশে টংঘর তৈরি করে দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন। টিন পিটিয়ে শব্দ করা, চিৎকার-চেঁচামেচি কিংবা মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে কেরোসিনের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে এই প্রচেষ্টাও এখন কঠিন হয়ে উঠেছে।
আন্ধারুপাড়া গ্রামের গারো কৃষক মেজেস সাংমা বলেন, "হাতির দল প্রায়ই ধানখেতে হামলা করে। তাই বাধ্য হয়ে পাহারা দিতে হয়। কিন্তু এখন হাতি তাড়ানো খুব কঠিন হয়ে গেছে।"
সমশ্চূড়া গ্রামের কৃষক মো. হানিফ মিয়া (৫৫) বলেন, "ধান কাটার সময় হতে আরও ২০-২৫ দিন বাকি ছিল। কিন্তু ৪০-৪৫টি হাতির দল নামলে কিছু করার থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে আগেই ধান কাটছি।"
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বন বিভাগের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকলেও অনেকে তা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বর্গাচাষিরা নানা জটিলতায় বঞ্চিত হচ্ছেন।
দাওধারা গ্রামের কৃষক মো. হালিম উদ্দিন (৫৬) বলেন, "হাতির আক্রমণে যে ক্ষতি হয়, সরকার তার চার ভাগের এক ভাগও দেয় না। অনেক সময় ক্ষতিপূরণ পেতেও দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়।"
মেজেস সাংমাও জানান, যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়, তা ক্ষতির তুলনায় অপ্রতুল।
গারো পাহাড় বন্য প্রাণী ও নদী রক্ষা পরিষদের উপদেষ্টা বিপ্লব দে কেটু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা মানুষ-হাতির এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন পরিস্থিতি তাঁদের জীবনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
সমশ্চূড়া বিট কর্মকর্তা মো. কাওসার জানান, হাতির দল বর্তমানে সমশ্চূড়া ও বাতকুচি জঙ্গলে অবস্থান করছে। লোকালয়ে যাতে ঢুকতে না পারে, সে জন্য এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম ও স্থানীয় লোকজন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, বন্য হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে এবং মানুষ-হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এনজে