
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শেই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসির ও দাঈ মাওলানা সাদিকুর রহমান আল আজহারী।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশ দাওয়াহ সার্কেল আয়োজিত ‘জাতীয় বক্তব্য প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিসবাহুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মু. মহিউদ্দিন আহমদ।
দাওয়াহ সার্কেলের পরিচালক শাহীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম শাফী, আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিযোগী, অভিভাবক ও দাওয়াতি অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে মিলনায়তন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা সাদিকুর রহমান আল আজহারী বলেন, “মহানবী (সা.) শুধু ধর্মপ্রচারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক। জাহেলিয়াতের ঘোর অন্ধকারে তিনি ন্যায়, ইনসাফ ও মানবতার মশাল জ্বেলেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই অস্থির ও সংঘাতময় পৃথিবীতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সিরাতই আমাদের মুক্তির একমাত্র পথ। তরুণরা যদি তাঁর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে আসে, তবে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠন সময়ের ব্যাপার মাত্র।”
সভাপতির বক্তব্যে দাওয়াহ সার্কেলের পরিচালক শাহীন আহমদ বলেন, “তরুণদের মাঝে রাসুলের সিরাত চর্চা ও দাওয়াতি চেতনা জাগ্রত করাই আমাদের এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ইনশাআল্লাহ, আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারাই আগামীর বাংলাদেশ। রাসুলের আদর্শ বুকে ধারণ করে সমাজের প্রতিটি স্তরে আলো ছড়িয়ে দিন।”
অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা ১০ প্রতিযোগীর হাতে নগদ অর্থ, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিজয়ীদের চোখে-মুখে দেখা যায় রাসুলপ্রেমের দীপ্তি আর দ্বীনের পথে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশ দাওয়াহ সার্কেল এই জাতীয় বক্তব্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।
বিএইচ