গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গত কয়েক দিনে কুকুড়ের কামড়ে তিনজন মারা গেছেন। এ খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ মৃত্যুর বিষয়টি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে কুকুরের কামড়ে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার সর্বশেষ মারা যান। তাকে ১৪ দিন আগে কামড় দেয় কুকুর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুকুরের কামড়ে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে গত ৬ মে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নন্দা রানী (৫৫) ও একই ইউনিয়নের ফুলু মিয়া (৪২) এবং ৮ মে মারা যান রতনেশ্বর কুমার (৩৭)।
এ ছাড়া গত ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি এবং পাশের ছাপরহাটী ইউনিয়নের মণ্ডলের হাট এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে দুই শিশু ও নারীসহ অন্তত ১৩ জন গুরুতর অসুস্থ হন।
তাদের মধ্যে সংকটাপন্ন হওয়ায় আফরোজা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আরো ৯ জন নারী-শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, এরই মধ্যে একটি পাগলা কুকুরকে আক্রান্ত এক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরেছেন বলে জানা গেছে। তবে বিভিন্ন এলাকায় পাগল কুকুরের সংখ্যা কত তা তিনি বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলার সিভিল সার্জন মো. রফিকুজ্জামান জানান, কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর বিষয়টি এই মুহূর্তে তার জানা নেই। তিনি জানান, কুকুর বা অন্য কোনো জন্তু কামড় দিলে সময়মতো টিকা নিতে হবে। তাহলেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধ সম্ভব। পাশাপাশি কামড়ের পর ক্ষতস্থান পরিচর্যা সম্পর্কে সবাইকে স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে।
তিনি বলেন, চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
এনজে