
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবাদিকরা জনগণ ও সংসদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করেন। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিক ও সংসদকে একসাথে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
বিপিজেএর সভাপতি হারুন জামিল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ), নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান, মনিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান পঞ্চায়েত প্রমুখ। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ সংসদ অনেক ত্যাগ- তিতিক্ষা ও রক্তের ওপর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের অনেক আশা। সে প্রত্যাশা পূরণ না হলে জনগণ হতাশ হবে। জনগণের সঙ্গে সংসদের সম্পর্ক থাকতে হবে।
স্পিকার বলেন, বর্তমান সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ব্যাপক। বিগত ২০ বছর দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন নষ্ট হয়ে গেছে। দেশ একটি জংলি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সর্বত্রই মানের অবনতি ঘটেছে। এ সংসদ অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের ওপর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানুষের অনেক আশা। সে প্রত্যাশা পূরণ না হলে জনগণ হতাশ হবে। জনগণের সঙ্গে সংসদের সম্পর্ক থাকতে হবে। দেশের জন্য গণবান্ধব রাজনীতি প্রয়োজন। সাংবাদিকেরা সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্পিকার।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাকশাল আমলে সাংবাদিকতার যে ক্ষতি হয়েছে, তা আর পূরণ হয়নি। ওই ভীতি থেকে বিগত ২০ বছরেও সাংবাদিকরা বের হতে পারেননি। দেশে এখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে। সংবাদপত্রগুলো যা ইচ্ছা লিখছে। পঁচাত্তরের আতঙ্কের পর মিডিয়া আজও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে অনেক স্বপ্ন নিয়ে এ দেশের জনগণ দেশটাকে স্বাধীন করেছে। কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্নগুলো ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের বিগত সময়ে গুম, আয়না ঘর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। অর্থনীতির লুটপাট হয়েছিল। আমরা কোনো দিন এটা কল্পনাও করেনি। কিন্তু এ দেশের জনগণের শক্তি আছে, ছাত্র-তরুণ, তাদের পিতা-মাতা, সাধারণ মানুষ যেদিন রাস্তায় নেমেছিল, সেদিনই আওয়ামী লীগ পালাতে বাধ্য হয়েছে। এ সংসদ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে জনগণ হতাশ হবে।
তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, সবার ওপরে দেশ। দেশের স্বার্থকে এগিয়ে রাখতে হবে। আশার কথা হচ্ছে- বিরোধী দল ততটা ভায়োলেন্ট নয়। তাদের কাজ সরকারের ভুল-ত্রুটির সমালোচনা করা। তারা তা করছে। সরকারি দলের কাজ সংসদকে কার্যকর করে এগিয়ে নেওয়া। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়কেই মিলেমিশে সংসদকে এগিয়ে নিতে হবে।
স্পিকার আরও বলেন, সাংবাদিকদের উচিত সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলা। দেশের সাংবাদিকতার যথেষ্ট স্বাধীনতা রয়েছে এখন। সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করেন তিনি।
বিপিজেএ নেতারা সংসদ রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা তুলে ধরেন। স্পিকার সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।
বিএইচ