কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কথিত পুশইন চেষ্টাকে কেন্দ্র করে। বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে কয়েকজনকে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ রুখতে দিন-রাত পাহারা দিচ্ছেন বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে পুরো সীমান্ত এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিএসএফ বকবান্দা ও ঝাউবাড়ি সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি দ্রুত স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেয়। তাদের কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধের কারণে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে গ্রামবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায় বিজিবি।
রোববার সারাদিন সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও সন্ধ্যার পর আবারও একই সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এবারও বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয় বিএসএফ। সীমান্তবাসীর আশঙ্কা, সুযোগ পেলেই আবারও এমন চেষ্টা চালাতে পারে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বকবান্দা গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “গতকাল বিএসএফ কয়েকজনকে পুশইনের জন্য সীমান্তে নিয়ে এসেছিল। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণ সতর্ক থাকায় তারা সফল হতে পারেনি। আজ আবারও চেষ্টা করেছে। সীমান্তে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে মনে হচ্ছে।”
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, “২০০১ সালের বড়াইবাড়ী ঘটনার পর থেকে এ এলাকায় বিএসএফ বারবার উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে। গত বছরও ১৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। আমরা সীমান্তবাসী দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত, কিন্তু কাউকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না।”
বিজিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও স্থানীয় জনগণ যৌথভাবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “বিএসএফের যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে।”
এদিকে সীমান্তে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি টহল জোরদার করেছে। স্থানীয় জনগণও নিজ উদ্যোগে পাহারা অব্যাহত রেখেছেন। ফলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
এনজে