
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-লোন ব্যবস্থা, এআইভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদনের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণার মাধ্যমে ডিজিটাল রূপান্তর ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন হবে।
এছাড়া ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকের লেনদেন রিপোর্টিং সিস্টেমে আনার মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন 'সম্পাদক পরিষদ'- এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে গভর্নর এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ বা ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং তা দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
এ সময় ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্বল ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং ব্যাংক খাতের ডিজিটাল রূপান্তরসহ আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও 'নিউ এজ' পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক ও 'বণিক বার্তা' পত্রিকার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল সভায় অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরেরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফেরাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন গভর্নর।
দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ ও পর্ষদ পুনর্গঠন
গভর্নর দুর্বল ব্যাংকসমূহের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অগ্রগতি অবহিত করে জানান, ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) উন্নয়ন ও সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার পর পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতি পাবে।
তিনি জানান, এছাড়া ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি সম্পাদকদের অবহিত করেন।
গভর্নর জানান খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘অর্থঋণ আদালত আইন’ এর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি আদায় অযোগ্য ঋণসমূহ নিষ্পত্তির জন্য ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে ব্যাংকের পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত পরিমাণের অধিক ডলার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিচ্ছে বলে জানান গভর্নর।
এছাড়া ইউপাস এলসির ক্ষেত্রে বিল ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ফান্ডের সুদহার হ্রাস করা হয়েছে, যা আমদানিকৃত পণ্যের দাম হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাতকালে সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং খাতের টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত দেন এবং উভয় পক্ষ আর্থিক খাতের অগ্রগতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী এবং দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন।
এএ