
>> আদায় অযোগ্য ঋণে পরিণত ১৩৯৩ কোটি টাকা
দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে যে কয়েকটা ভাল ব্যাংক রয়েছে তার মধ্যে একটি হল বেসরকারি খাতের পূবালী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি নেই। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক বাড়ছে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ। গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২২৮ কোটি টাকা। আর বিগত চার বছরের ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৭০০ কোটি টাকা। যদিও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের কম তথাপি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভাল ব্যাংকগুলো এভাবেই ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। ঋণ বিতরণে সতর্ক না থাকলে এগুলো পরে ফিরে আসে না। পরিণত হয় খেলাপিতে। খেলাপি ঋণ বাড়তে বাড়তে এক সময় গ্রাহকদের আমানত ঝুঁকিতে পড়ে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে পূবালী ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার ৭১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছিল ১ হাজার ১১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
আর ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে পূবালী ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৪ হাজার ৮৮৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছিল ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ২৭৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
তথ্য মতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে পূবালী ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৮ হাজার ৯৬৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছিল ১ হাজার ৭৭৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ৩৮৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে পূবালী ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার ১১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছিল ১ হাজার ৫০৩ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে পূবালী ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৭০ হাজার ২৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে ১ হাজার ৭৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২২৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ শেষে অর্থাৎ চার বছরে পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬১৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
তথ্য বলছে, পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ১৩ লাখ টাকাই মন্দে ঋণে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলীর নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
এএ