ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে রিফাত (২৮) হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত মনেক ডাকাত এবং তাঁর দুই ছেলে সুমন ও নোমানসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত রিফাতের বোন মুক্তা বেগম বৃহস্পতিবার নবীনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ওবায়দুর রহমান বলেন, “নিহতের বোনের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ তদন্ত করছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল দাসপাড়ায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকে রিফাত নিখোঁজ ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর করিমপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। স্বজনেরা মরদেহটি রিফাতের বলে শনাক্ত করেন।
বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ নিজ গ্রাম থোল্লাকান্দিতে দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য দেয়নি পুলিশ। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এনজে