
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানের দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, এস আলম গ্রুপকে দেওয়া ঋণ সুবিধা, ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে বিভিন্ন নথি, বোর্ড সদস্যদের তথ্য এবং সংবেদনশীল সিদ্ধান্তসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র তলব করেছে সংস্থাটি।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ১৯ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা-২০০৭-এর ২০ বিধি অনুযায়ী অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেকর্ডপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক) মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম
চিঠি অনুযায়ী, উপপরিচালক মো. মোমিনুল ইসলামকে টিম লিডার করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার এবং উপসহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লা।
যেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান এবং অন্যান্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম, ঋণ খেলাপীদের ছাড় দিয়ে নীতিমালা জারী, রিজার্ভ চুরি, হলমার্ক জালিয়াতি, এস আলম গ্রুপ এর ঋণ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির সুযোগ দিয়ে বিগত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করার অভিযোগ।
চিঠিতে বলা হয়, গত প্রায় ১৫ বছরে সংঘটিত এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
যেসব নথি চেয়েছে দুদক
দুদকের চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ছয় ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
ব্যাংকিং খাতের আলোচিত সিদ্ধান্তগুলোও তদন্তের আওতায়
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দুদকের চাওয়া নথিগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, অনুসন্ধানটি শুধু কোনো নির্দিষ্ট ঋণ অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত, বড় ঋণের সীমা নির্ধারণ, ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতিমালা, ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের অনুমোদন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে দুদকের অনুসন্ধান টিমের কাছে অভিযুক্তদের বিষয়ে অনেক তথ্য এসেছে। তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশে ব্যাংকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে।
এএ