
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের বৈরিতা কমছে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ। চুক্তি বাস্তবায়ন কঠিন তবে সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমেনি। উল্টো দু’পক্ষ প্রায়ই নানা হুঁশিয়ারি আর সতর্কবার্তা দিয়ে চলেছে। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ।
তেহরানে হামাস নেতার সঙ্গে বৈঠকে তিনি সাফ জানান, চুক্তি হলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে গভীর মতবিরোধ রয়েই গেছে। তবে এই স্মারক বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।
গালিবাফ স্পষ্ট করেন, ইরান কখনোই ইসরাইলকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে না এবং প্রয়োজনে ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে 'প্রতিরোধ অক্ষ'-এর পাশে থাকবে।
কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটলের গুঞ্জন নাকচ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বেশির ভাগ বিষয়েই তারা একমত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ সামরিক অভিযানের কারণেই তেহরান দুর্বল হয়েছে উল্লেখ করে নেতানিয়াহু জানান, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মতো আরও নতুন শান্তি চুক্তি সম্ভব হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনকহারে কমেছে। যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স- ইউকেএমটিও-র তথ্যানুযায়ী, গত তিনদিনে মার্কিন সেনাদের পাহারায় মাত্র ৮০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে। সংঘাত শুরুর আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ চলত।
জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পেছনে নিরাপত্তার বিষয়টিই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউকেএমটিও সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে এখনো মাইনের ঝুঁকি রয়ে গেছে। এর পাশাপাশি পুরো এলাকায় গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমে অনবরত জ্যামিং বা সিগন্যালে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে, যা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপদ তৈরি করছে।
বিএইচ