টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসে চকরিয়া ও পাশ্ববর্তী আজিজনগরে মোট সাতজনের প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে। মুহূর্তে মুহূর্তে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায়। পাহাড়ধসে একই পরিবারের দুই ভাই-বোন মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়। গুরুতর আহত হন তাদের মা। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে পাঠান।
অন্যদিকে চকরিয়ার পাশ্ববর্তী আজিজনগর এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় এক শিশুসহ আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে দুই এলাকায় পাহাড়ধসে মোট সাতজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বহু স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উঁচু স্থানে সরে যাচ্ছেন। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী ও পাহাড়ঘেঁষা এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তারা দ্রুত উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেলে চকরিয়া ও আশপাশের এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এনজে