
একটি দেশের অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি ও প্রাণস্পন্দন লুকিয়ে থাকে তার সাধারণ শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের মানুষ এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের এই বৃহৎ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এক নীরব, নির্মম এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যে যুদ্ধের নাম ‘মূল্যস্ফীতি’। এটি কোনো দৃশ্যমান যুদ্ধ নয়, এর কোনো রণহুঙ্কার নেই; অথচ এর প্রতিটি আঘাত সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ভাতের থালায়, সন্তানের শিক্ষার বাজেটে এবং বৃদ্ধ মা-বাবার অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের ফাইলে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য এবং দেশের সমকালীন বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে এ দেশের যাপিত জীবনের যে চালচিত্রটি ফুটে ওঠে, তা এককথায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও করুণ।
টানা সাড়ে চার বছর—অর্থাৎ দীর্ঘ ৫৩ মাস ধরে দেশের মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির ক্ষীপ্র গতির সাথে তাল মেলাতে পারছে না। প্রতি মাসে দেশের বাজারগুলোতে যেভাবে জ্যামিতিক হারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, সাধারণ মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না। ফলে কাগজ-কলমে মানুষের বেতন বা দৈনিক মজুরি কিছুটা বাড়লেও, প্রকৃতপক্ষে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বা ‘প্রকৃত আয়’ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সীমিত আয়ের মানুষ আজ বাজার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য কেনার ন্যূনতম সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছেন, আর আত্মমর্যাদাশীল মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সমাজ ও সংসারের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভেতর-বাহিরে পিষ্ট হচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদরা মূল্যস্ফীতিকে আখ্যা দিয়ে থাকেন ‘এক অদৃশ্য ও নির্মম কর’ হিসেবে। একজন নাগরিকের আয়ের সিংহভাগ যদি কেবল বেঁচে থাকার ন্যূনতম অনুষঙ্গ—চাল, ডাল, তেল, লবণ কেনাকাটাতেই শেষ হয়ে যায় এবং সেই তুলনায় যদি তার পকেটের আয় না বাড়ে, তবে তাকে অবধারিতভাবেই জমানো সঞ্চয় ভেঙে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কাছে হাত পেতে ধারদেনা করে চলতে হয়। ঠিক এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিটিই এ দেশে চলছে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে। বিবিএসের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং সে সময় গড় জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ, সে সময় পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে উঁচুতে অবস্থান করছিল, যার ফলে মানুষের পারিবারিক জীবনে কিছুটা স্বস্তি ও সঞ্চয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে আজ পর্যন্ত—বিগত ৫৩ মাসের একটি বারের জন্যও দেশের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির পারদকে স্পর্শ করতে পারেনি। সর্বশেষ জুন মাসের উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে, যার বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার মাত্র ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, নির্মাণ, কলকারখানা এবং পরিবহনসহ ৬৩ ধরনের অনানুষ্ঠানিক খাতের মজুরিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিবিএস এই হিসাব তৈরি করে। এই সরকারি খতিয়ানই অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, দেশের খেটে খাওয়া মানুষের প্রকৃত আয় কতটা দ্রুত ও আশঙ্কাজনকভাবে সংকুচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বিশাল অংশ, প্রায় ৮৬ শতাংশই পরিচালিত হয় অনানুষ্ঠানিক (Informal) খাতে। দেশের ৫ কোটিরও বেশি কর্মক্ষম নারী-পুরুষ এই অনানুষ্ঠানিক খাতে দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, ছোট দোকানদার কিংবা চাতালশ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত। প্রাতিষ্ঠানিক খাতের মতো তাদের কোনো নির্দিষ্ট উৎসব ভাতা, মহার্ঘ ভাতা বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিরাপত্তা নেই। মূল্যস্ফীতির প্রথম এবং সবচেয়ে মারাত্মক ধাক্কাটি এসে লাগে এই অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষের ওপর। জিনিসপত্রের দাম যখন টানা ডাবল ডিজিটের কাছাকাছি অবস্থান করে, তখন এই বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। বাস্তব জীবনের অসংখ্য গল্প এই কঠিন সত্যকে আরও স্পষ্ট করে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রাজধানীর কাওলা এলাকায় বসবাসকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী্র অভিজ্ঞতা আজ দেশের লাখো মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিচ্ছবি। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তার কোন বেতন বাড়েনি। ২০২৬ সালে এসে তিন বছর পর তার বেতন পাঁচ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বাসাভাড়া বেড়েছে একাধিকবার, চাল-ডাল-তেল, মাছ-মাংস, সবজি, শিশুদের শিক্ষা ব্যয় এবং চিকিৎসা খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে মাস শেষে যে মানুষটি কয়েক হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পারতেন, এখন মাসের শেষ সপ্তাহে ধারদেনা ছাড়া চলতে পারেন না।
এই চিত্র কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি বাংলাদেশের নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জীবনের বর্তমান বাস্তবতা।সংসার চালাতে গিয়ে মানুষ আজ বিনোদন, পর্যটন, ভালো পোশাক কিংবা পুষ্টিকর খাবার কেনার বাজেট নির্মমভাবে কাটছাঁট করছে। আর মানুষের এই বাধ্য হয়ে খরচ কমিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও উৎপাদন খাতে চরম নেতিবাচক ও মন্দাভাব সৃষ্টি করছে।
আজকের এই দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি, এর পেছনে রয়েছে বিগত শাসনব্যবস্থার ভুল নীতি, উদাসীনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ব্যর্থতা। ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশের মূল্যস্ফীতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে (৭ শতাংশের নিচে) ছিল। কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়তে থাকে। তৎকালীন নীতিকারেরা এই বৈশ্বিক সংকটকে অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা ঢাকার একমাত্র ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪০ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়। এই একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত দেশের পরিবহন ও উৎপাদন খাতে যে দাবানল সৃষ্টি করে, তাতেই মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৯ শতাংশ পার হয়ে যায়। এরপর আর মূল্যস্ফীতির চাকার গতি টেনে ধরা যায়নি। একই সময়ে ডলারের তীব্র সংকট শুরু হয় এবং টাকার অবমূল্যায়ন ঘটে দ্রুত গতিতে। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমতে থাকায় আমদানি খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা এই সংকটকে শুরুতে স্বীকৃতিই দেননি, বরং বাস্তব মূল্যস্ফীতিকে আড়াল করে কৃত্রিম কম হিসাব দেখানোর এক অপচেষ্টা চলেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে এবং অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। নতুন সরকারের সময় পূর্ববর্তী জমানার প্রকৃত ও লুকানো তথ্য বেরিয়ে আসে; দেখা যায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ১২ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ছিল বিগত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বর্তমান সরকার সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ, ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি এবং কিছু নিত্যপণ্যের শুল্ক কমানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। কিন্তু বাজার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি এবং সরবরাহ লাইনের দীর্ঘদিনের ত্রুটির কারণে তা টেকসই করা যায়নি। গত তিন মাস ধরে দেশের মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে।
এমন একটি সংবেদনশীল ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চলতি জুলাই মাস থেকে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় মূল বেতন পেতে শুরু করবেন। সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য এটি ইতিবাচক হলেও, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এটি দেশের বিশাল বাজারে নতুন করে আশঙ্কার কালো মেঘ তৈরি করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে যখন নতুন করে বিপুল পরিমাণ কাগজের অর্থ (Money Supply) প্রবেশ করবে, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই সামগ্রিক চাহিদাকে উসকে দেবে। ১৫ লাখ সরকারি চাকুরিজীবীর হাতে বাড়তি টাকা আসার খবর পাওয়া মাত্রই দেশের অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী, আড়তদার ও বাড়িওয়ালারা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে বাজারে আরেক দফা জিনিসপত্রের দাম ও বাসাভাড়া বাড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। যদি তেমনটি ঘটে, তবে তা চলমান মূল্যস্ফীতিকে আরও বেশি উসকে দেবে। দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র একটি ছোট অংশ সরকারি চাকরি করেন। বাকি যে বিশাল জনসংখ্যা বেসরকারি খাতে বা অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত, তাদের আয় কিন্তু এই জুলাই মাসে বাড়ছে না। ফলে সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির খেসারত দিতে হবে দেশের বেসরকারি খাতের সীমিত আয়ের মানুষ এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে, যারা নতুন করে মূল্যস্ফীতির যাতাকলে পিষ্ট হবেন।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিগগিরই মূল্যস্ফীতি জাদুকরী উপায়ে কমে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে অনতিবিলম্বে কিছু সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, সরকারি খাতের বেতন বৃদ্ধির কারণে বাজারে যে প্রভাব পড়বে, তার ধাক্কা সামলাতে বেসরকারি খাতের কর্মী ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ ও চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে পোশাক খাত, উৎপাদনমুখী শিল্প এবং প্রাতিষ্ঠানিক বেসরকারি কোম্পানিগুলো যাতে তাদের কর্মীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে বেতন বা মহার্ঘ ভাতা দেয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। দ্বিতীয়ত, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকারের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, টিসিবি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড প্রথার পরিধি ও বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—এই সুবিধাগুলো যেন কোনো রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাব ছাড়া প্রকৃত অভাবী ও সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছায়। শহরের নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য ওএমএস (Open Market Sale) কার্যক্রম আরও জোরালো করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজার সিন্ডিকেট দমন ও কঠোর তদারকি। বাংলাদেশে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়তে মাসের পর মাস লেগে যায়, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার গুজব ছড়ানোর সাথে সাথেই দেশের বাজারে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অশুভ চক্র বন্ধ করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং প্রতিযোগিতা কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতায় ও কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। আড়ত থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে তদারকি জোরদার করে কৃত্রিম মুনাফালোভী সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।
মূল্যস্ফীতির এই দীর্ঘমেয়াদি চাপ কেবল মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতাই নষ্ট করছে না, বরং তা একটি পুরো প্রজন্মের পুষ্টিহীনতা, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া এবং সামগ্রিক মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একজন পিতা যখন তার সন্তানের দুধের বাজেট কাটছাঁট করেন কিংবা অসুস্থ মা-বাবার ওষুধ কেনা পিছিয়ে দেন, তখন তা কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত সংকট থাকে না, তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের সমষ্টিগত ব্যর্থতার দলিল। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের এই সন্ধিক্ষণে সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের ৮৬ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী মানুষের মুখে দু’মুঠো অন্ন জোগানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হোক এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় জাতীয় অগ্রাধিকার। অন্যথায়, অর্থনৈতিক বৈষম্যের এই গভীর ক্ষত ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ভিত্তিকে ভেতর থেকে দুর্বল ও অচল করে তুলবে।
লেখক : মো. সহিদুল ইসলাম সুমন
অর্থনীতি বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক।
E-mail: msislam.sumon@gmail.com