পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ারে সন্দেহজনক লেনদেন ও অস্বাভাবিক মূল্য ওঠানামার কারণে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। রোববার বিএসইসির নজরদারি বিভাগ থেকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এই তদন্ত পরিচালনার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠি জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গত ৮ মার্চ,২০২৬ প্রতিটি শেয়ারের দর ছিলো ৪৮ টাকা। সব শেষ ১২ জুলাই প্রতিটি শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ৭৯ টাকা ১০ পয়সা।
তদন্তের মূল ফোকাস যা থাকছে:
বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ‘বি’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে সম্প্রতি কিছু অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটিকে কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
১. সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে কোনো সমন্বিত, কারসাজিমূলক বা কৃত্রিম লেনদেন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে কি না।
২. কোম্পানির কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (ইউপিএসআই) অপব্যবহার করে নিষিদ্ধ ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা ভেতরের কেউ অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে কি না।
৩. সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার বা স্টক ডিলার এবং তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন ঋণ বিধিমালা এবং কমিশনের অন্যান্য নির্দেশনা সঠিকভাবে প্রতিপালন করেছে কি না।
তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে, এই লেনদেনে সহায়তা করা বা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ ব্রোকারহাউজ ও তাদের কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্বও নির্ধারণ করা হবে। কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন বিধিমালা, ২০০০-এর আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ প্রদানে ধারাবাহিকতা না থাকা এবং দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে কোম্পানিটি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ার দর ও লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখা যায়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মুখে ফেলছিল।
বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া ও বাজার পরিস্থিতি:
নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই কঠোর অবস্থানের পর বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্তের নির্দেশের ফলে শেয়ারটিতে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা না জেনে যেকোনো ধরণের গুজবের ওপর ভিত্তি করে এই শেয়ারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হওয়া উচিত।
এক নজরে সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স
পুঁজিবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৫৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালক ৩৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে ৪৩ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার।