
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে দীর্ঘদিন দেশের শেয়ারবাজারে দেখা দিয়েছিল মন্দাভাব। এই মন্দা কাটিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সর্বশেষ পাক্ষিক বাজার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১ থেকে ১৫ জুলাই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
ডিএসইর তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১ থেকে ১৫ জুলাই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩৯ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর আগের পাক্ষিকে, অর্থাৎ ১৬ থেকে ৩০ জুন সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩৬৬ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পাক্ষিকের ব্যবধানে বিদেশি লেনদেন কমলেও বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। ২০২৫ সালের একই সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৭৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি লেনদেন প্রায় ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ শতাংশ বেড়েছে।
শুধু বিদেশি বিনিয়োগই নয়, একই সময়ে বাজারের সামগ্রিক চিত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। পাক্ষিক শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৯২৬ দশমিক ২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের পাক্ষিকে ছিল ৫ হাজার ৭৬২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট। সে হিসাবে আগের পাক্ষিকের তুলনায় প্রায় ১৬৩ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ ও ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ডিএসইএস সূচকেও উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে প্রধান মূল্যসূচক ছিল ৫ হাজার ৬২ পয়েন্ট।
বাজারে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। ডিএসইর তথ্য বলছে, ১ থেকে ১৫ জুলাই সময়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া শেয়ার লেনদেন এবং লেনদেনের সংখ্যা- সব ক্ষেত্রেই আগের পাক্ষিকের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন বাড়ার বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও এটিকে এখনই বিদেশি পুঁজির স্থায়ী প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, মোট লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ক্রেতা নাকি নিট বিক্রেতা—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক ও নীতিগত স্থিতিশীলতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ওপর আস্থা, দ্রুত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থার কিছুটা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই প্রবণতা টেকসই করতে হলে কেবল সূচকের উত্থান নয়, বাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ফিরছেন কি না, তা বোঝার জন্য আগামী কয়েক মাসের নিট বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।
এএ