
স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় খুবই কম ব্যয় করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় খুবই কম ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ দেশের বিপুল জনসংখ্যা রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে (নিপসম) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বখাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আমরা চাই দেশের স্বাস্থ্যখাতে ভালো ও মানসম্মত গবেষণা হোক। স্বাস্থ্য গবেষণায় সক্ষমতা বাড়ানো, গবেষকদের মান উন্নয়ন এবং নতুন গ্র্যাজুয়েট তৈরির ক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এমবিবিএস ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তারা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গবেষণার তহবিল সংগ্রহ করবেন এবং গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে।
দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছানোর বৈপ্লবিক রূপরেখা তুলে ধরে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম ও শহরের ওয়ার্ডগুলোতে একটি করে স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হেলথ কার্ডকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে ‘ইলেকট্রনিক পেশেন্ট রেফারেন্স সিস্টেমের’ সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে একজন রোগীকে অপ্রয়োজনে ইউনিয়ন বা উপজেলা পার হয়ে ঢাকায় এসে ভিড় জমাতে হবে না। এ ধরনের প্রতিটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ সফল করতে গবেষণার ভূমিকা অপরিসীম। আর এই গুরুদায়িত্ব পালনে নিপসমের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার সব ধরনের সহায়তা করবে।
বর্তমান চিকিৎসা-ব্যবস্থার নীতিগত পরিবর্তন ও সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, বর্তমান চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বদলে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হবে। একজন রোগী যেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, স্ট্রোক বা ক্যানসারের শেষ ধাপে না পৌঁছায়, তার আগেই প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে সুস্থ থাকতে পারে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য গবেষণার ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ উল্লেখ করে জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) রয়েছে। যখনই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য গবেষণার কথা আসে, তখন বাংলাদেশ অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা ডায়রিয়া ও কলেরা নিয়ে যে বিস্তৃত গবেষণা করেছি, তার সুফল আজ বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো ডেটা উপস্থাপনের আগেই গবেষকদের সরাসরি উপজেলা হাসপাতালে যাওয়া উচিত। সেখানের কর্মচারী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন, যেন প্রকৃত সমস্যা ও সংঘাতের (কনফ্লিক্ট) জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা যায়। এক উপজেলার ভালো অভিজ্ঞতার খবর অন্য উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা-ব্যবস্থায় ইতিবাচক উন্নতি দৃশ্যমান হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন- ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।
বিএইচ