সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁ ও নাটোরের ১৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় এ আগুন লাগে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার বিভিন্ন ইউনিয়নে। তাদের মধ্যে একই গ্রামের চারজন রয়েছেন। এ ছাড়া নাটোরের বাগমারা থানার দুজনও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কারখানাটিতে ১৭ জন বাংলাদেশী প্রবাসী কাজ করতেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে আগুনে দগ্ধ হয়ে এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশী কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি সেলুনে যাওয়ার জন্য বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় রাত দেড়টায় বলেছে, ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা।
আগুনে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, ‘স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহসমূহ শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।’
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় রাত ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে রাত ১১টার দিকে মরদেহগুলো কিং সৌদ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়।
এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সেলরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সার্বিক সহযোগিতা করেন সায়েখ আফতাবউদ্দিন ফারুক।
নিহতদের নাম পরিচয় শনাক্তে তারা স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তারা নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা।
রাত ১টার দিকে সৌদি দূতাবাসের কাউন্সিলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল বলেছিলেন, সৌদির কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
শ্রম কাউন্সেলরসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
এনজে