
চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে আসায় দরপত্র ছাড়া আরও ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে সরকার। ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য’ সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এসব কার্গো কেনার প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজির এসব কার্গো ক্রয় প্রস্তাবে সায় মেলে।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকের নীতিগত অনুমোদন লাগে। এ দিনের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪টি কার্গো কেনা হবে।
এর আগে ৬ অগাস্ট দরপত্র ছাড়া আরও আট কার্গো এলএনজি এবং দেশের 'আপৎকালীন' এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের 'স্থিতিশীলতা' নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানিরও সিদ্ধান্ত হয়।
এদিন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকও হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক দরপত্র সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় তিন কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব করা হলে এক কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে এ এলএনজি কেনা হবে।
এদিকে পেট্রোবাংলার মঙ্গলবারের তথ্য বলছে, মহেশখালীর সাগরে ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে মজুদ কমে যাওয়ায় আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ আরও কমেছে।
সেদিন সন্ধ্যা ৬টায় দুই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের হার ছিল ৬৩ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট, যা এর আগের দিন সোমবার রাত ৮টায় ছিল ৬৬ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। সেই হিসাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলএনজি সরবরাহ ৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম ছিল।
দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল কক্সবাজারের মহেশখালীতে। একটি এক্সিলারেট এনার্জির। অন্যটি সামিটের এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি। তবে দুটি টার্মিনালই পরিচালনা করে এক্সিলারেট এনার্জি।
এদিকে বুধবার ক্রয় কমিটির সভায় ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন, ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার এবং ৭৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানিতে সায় মেলে।
এএ