
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটিয়ে তাবলিগ জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের সাদপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি ও তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাবলিগ জামাতের সাদপন্থী অংশের মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।
সবার মতামত বিবেচনা করে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সে অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।
ইজতেমার স্থান ও অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থীদের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেখানে সাদপন্থীরা টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আজকের বৈঠকে সাদপন্থী প্রতিনিধিরা ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সাদপন্থী প্রতিনিধিরা দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাওয়া কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার অনেক কমেছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে নিহত হওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ওই ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার, ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা বা গাফিলতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও টেকসই করতে সরকারের প্রচেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। সভায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলিগ জামাতের সাদপন্থী অংশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তাবলিগ জামাতের জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিএইচ