
নফস মানুষের স্বাভাবিক সত্তার একটি অংশ। এর মধ্যে ভালো ও মন্দ—দুই ধরনের প্রবণতাই থাকতে পারে। মানুষের দায়িত্ব হলো নিজের খারাপ প্রবৃত্তি ও অন্যায় আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে নিজেকে পরিচালিত করা। আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও সৎকর্মের মাধ্যমে নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
যে ১০টি উপায়ে নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সেগুলো হলো-
১. নিয়মিত আত্মশুদ্ধির চেষ্টা
নিজের ভুল-ত্রুটি পর্যালোচনা করে সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। পাশাপাশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।
২. বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করা
আল্লাহর জিকির ও স্মরণ মানুষের অন্তরকে সচেতন রাখে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার ভালো-মন্দ এবং পরকালের পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা করলে নফসের খারাপ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
৩. গুনাহ থেকে দূরে থাকা
মন্দ চিন্তা, অশ্লীলতা, মিথ্যা, প্রতারণা ও অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। ভুল হয়ে গেলে দ্রুত তওবা করে ভালো কোনো কাজে মনোনিবেশ করা উচিত।
৪. দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্ব মনে রাখা
দুনিয়ার জীবন স্থায়ী নয়—এটি পরীক্ষার স্থান। এই উপলব্ধি মানুষকে অতিরিক্ত দুনিয়ামুখী আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে রাখতে এবং পরকালের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হতে সাহায্য করে।
৫. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন মুসলমানের জন্য উত্তম আদর্শ। তাঁর শিক্ষা ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার চেষ্টা করলে নফসের প্রবৃত্তিকে সঠিক পথে পরিচালনা করা সহজ হয়।
৬. কাজের পরিণতি নিয়ে ভাবা
কোনো কাজ করার আগে এর ভালো ও খারাপ দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন। সাময়িক আনন্দের জন্য এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যার পরিণতি দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৭. সময়কে কাজে লাগানো
অলসতা নফসের খারাপ প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সময়কে ইবাদত, জ্ঞানচর্চা, পরিবার ও সমাজের কল্যাণমূলক কাজে ব্যস্ত রাখা উচিত।
৮. সৎ মানুষের সঙ্গ বেছে নেওয়া
মানুষের চরিত্র ও চিন্তায় তার সঙ্গীদের প্রভাব পড়ে। তাই যারা ঈমান, নৈতিকতা ও ভালো কাজে উৎসাহিত করেন, তাদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো উচিত।
৯. নিয়ত শুদ্ধ রাখা
যে কোনো ভালো কাজের আগে নিয়ত শুদ্ধ করা জরুরি। মানুষের প্রশংসা বা দুনিয়াবি স্বার্থের পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে কাজের মূল উদ্দেশ্য করা উচিত।
১০. আল্লাহর কাছে দোয়া করা
নফসের প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ ও অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য নিয়মিত আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। আল্লাহর ভালোবাসা, হেদায়েত ও সৎপথে অটল থাকার জন্য তাঁর সাহায্য চাইতে হবে।
উল্লেখ্য, নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা একদিনের বিষয় নয়। নিয়মিত ইবাদত, আত্মসমালোচনা, সৎ মানুষের সঙ্গ, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতার মাধ্যমে ধীরে ধীরে আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হয়।
বিএইচ