কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর রুবেল (২২) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার উত্তর ব্যাপারীহাট সংলগ্ন কাশিরভিটা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রুবেল নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলা গ্রামের ভোলা মিয়ার ছেলে। তাঁর বাবাও পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কুচা, লাইট ও ব্যাগ নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রুবেল। এরপর রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে রাতভর সন্ধান চালিয়েও তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরদিন রোববার সকালে উত্তর ব্যাপারীহাট সংলগ্ন কাশিরভিটা এলাকায় স্থানীয় লোকজন একটি ধানক্ষেতে রুবেলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি রুবেলের বলে শনাক্ত করেন।
রুবেলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, তিনি বিদ্যুতের টেনাস মিটার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে এটি শুধুই স্থানীয়দের ধারণা; এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে রুবেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি কীভাবে মারা গেলেন, মাছ ধরতে গিয়ে কীভাবে ধানক্ষেতে পৌঁছালেন এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে রুবেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এনজে