ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতৃবৃন্দ। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং এস আলম গ্রুপের অবৈধ শেয়ার বাজেয়াপ্ত করাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে আলোচনা হয়।
রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যাংকের বর্তমান প্রশাসক নেতৃবৃন্দের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, “অন্য সব ব্যাংকের মতোই ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংকের মতো একটি বৃহৎ ব্যাংক কেবল একজন প্রশাসক দিয়ে চলতে পারে না।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এস আলম গ্রুপের অবৈধ শেয়ার বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত চলমান মামলা প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে ব্যাংক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পরিবর্তনের মাধ্যমে অদৃশ্য ইশারায় মামলাটি দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। অনতিবিলম্বে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ ৭ দফা দাবি মানা না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।”
সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবি:
১. পেশাদার পর্ষদ গঠন: অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।
২. প্রকৃত মালিকানা হস্তান্তর: ২০১৭ সালে জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া ব্যাংকের বৈধ মালিকানা প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
৩. বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন: ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠনকারী এস আলম ও অন্যান্যদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
৪. স্থিতিশীলতা ও অপপ্রচার রোধ: ব্যাংকিং খাতের আতঙ্ক দূর করতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. ব্যাংকের লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত: টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং অর্থ ঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
৬. লুটেরাদের পুনর্বাসন রোধ (আইন সংশোধন): ব্যাংক খাতের লুটেরাদের আজীবন অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
৭. সংসদীয় বক্তব্য প্রত্যাহার: ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিভ্রান্তমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করে গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
এনজে