চট্টগ্রামের রাউজানে গত দুই বছরে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধের কথা উঠে এসেছে।
সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার পর আবারও আলোচনায় এসেছে রাউজানের দুর্ধর্ষ কিলারদের বেপরোয়া ও তৎপরতা। পুলিশের দাবি, ভয়ংকর কয়েকজন কিলার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নান হত্যার মধ্য দিয়ে রাউজানে গত দুই বছরের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের শুরু। রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র সন্ত্রাসের ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানি ঘটে। মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, মুহাম্মদ আজম খান, আবু তাহের, জাহাঙ্গীর আলম, মুহাম্মদ হাসান, কমর উদ্দিন জিতু, মো. রুবেল, নুর আলম বকুল, মো. জাফর, মানিক আবদুল্লাহ, মো. ইব্রাহিম, রূপন নাথ, মো. আলমগীর, মুহাম্মদ সেলিম, দিদারুল আলম রিংকু, আবদুল হাকিম, আলমগীর আলম ওরফে আলম, জানে আলম সিকদার, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ওরফে রিয়াদ, আবদুল মুজিব ওরফে মুজিব ভান্ডারি, কাউসার উজ জামান বাবলু, মো. নাছির তালুকদার ওরফে মধু নাছির, মাকসুদুল হক চৌধুরী ওরফে মাসুদ, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সওদাগর। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন যুবদল কর্মী করিম।
এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে ভারতের পাঞ্জাবে অবস্থান করা সাজ্জাদ হোসেন খান ওরফে বড় সাজ্জাদের নাম হুকুমদাতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তার অনুসারী হিসেবে মো. ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, মোহাম্মদ আবছার মিয়া, মোহাম্মদ রায়হানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে প্রতিবেদনে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, ধামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার এবং মোহাম্মদ আবছার মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দুর্ধর্ষ কিলার হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ রায়হান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সর্বশেষ করিম হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর রায়হানের হাতে নাইন এমএম পিস্তল নিয়ে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্টোরিতে ছড়িয়ে দেয় রায়হান। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এটিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডগুলোর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং বিভিন্ন ঘটনায় অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোকে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সব কটি হত্যাকাণ্ডে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। রায়হানসহ অন্য জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের একের পর এক লাশ ফেলে দেওয়ার ঘটনায় রীতিমতো খেই হারানো অবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। দুর্ধর্ষ এসব কিলার পরিকল্পনামাফিক নৃশংস কায়দায় হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে পুলিশ। কিলারদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
এনজে