
দেশের শেয়ারবাজারকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক এবং একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ (মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন—এমঅ্যান্ডএ) সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের কাছে পাঠানো এক লিখিত প্রস্তাবে এ সুপারিশ করে ডিবিএ।
ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রস্তাবটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সুপারিশে ডিবিএ বলেছে, শেয়ারবাজারের দক্ষতা ও গতিশীলতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিজেদের শেয়ার পুনঃক্রয়ের (শেয়ার বাইব্যাক) জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে কোম্পানি আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে শেয়ার বাইব্যাক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে শেয়ার বাইব্যাক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, তদারকি ও পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা বিএসইসিকে দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিবিএ। এসব লেনদেনে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুপারিশ করেছে ডিবিএ।
সংগঠনটি বলেছে, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া দূর করা প্রয়োজন। এ জন্য এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে বিএসইসিকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিবিএর মতে, শেয়ারবাজার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আইনগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট কার্যক্রম—যেমন শেয়ার বাইব্যাক, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ—সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির ক্ষমতা বিএসইসির থাকা উচিত।
এ ধরনের কাঠামো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে সংগঠনটি।
ডিবিএ মনে করে, শেয়ার বাইব্যাক এবং একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর বিধি-প্রবিধান চালু করা হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট পুনর্গঠন ও মূলধন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
এর ফলে শেয়ারবাজারে গতিশীলতা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ সুরক্ষাও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছে সংগঠনটি।
শেয়ার বাইব্যাকের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের মূলধন কাঠামো ব্যবস্থাপনার সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে এটি কোম্পানির শেয়ারের দামে সম্ভাব্য সহায়তা দিতে পারে। অন্যদিকে, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের জন্য একটি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো থাকলে কোম্পানির পুনর্গঠন ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সহজতর হবে।
তবে উভয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রেই যথাযথ নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডিবিএ।
প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনী চূড়ান্ত করার সময় তাদের সুপারিশগুলো সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত বিধানগুলো কোম্পানি আইনের সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ।
বিএইচ