
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে যারা অতীতে সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন তাদের ব্যর্থতার কারণে জাতি যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, সে পর্যায়ে যেতে পারেনি। বরং সমাজে অনেক বঞ্চনা, হাহাকার, বিশৃঙ্খলা, বৈষম্য, অবিচার, দমন-পীড়ন এবং মানুষের সম্মান, সম্পদ ও জীবনের উপর আঘাত অহরহ ঘটেই চলেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজ যাদের হাতে চেক তুলে দিচ্ছি, তারা বয়সে অনেক ছোট। একদিন তারা বড় হবে। এ শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা দিয়ে একদিন জাতিকে নেতৃত্ব দেবে এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তারা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন আমিরে জামায়াত।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা যদি এখন থেকে মেধা ও মনন এবং দক্ষতা ও নৈতিকতার সঙ্গে নিজেকে গড়ে তুলতে পার, যদি মানুষ ও আল্লাহকে ভালোবাসতে পারো, তাহলে তোমাদের দ্বারা আগামীর সুন্দর সমাজ আমরা প্রত্যাশা করি। তোমাদের মেধা বিকাশে রাষ্ট্রকে এবং আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বলেন, এখন স্কুলে ভালো মানের লেখাপড়া হয় না বলে ঘরে ঘরে দৌড়াদৌড়ি করে লেখাপড়া করতে হয়। এটি সুস্থ সমাজের পরিচায়ক নয়। সন্তানদের জন্য আলাদা শিক্ষক রাখার সামর্থ্য সব পরিবারের নেই। স্কুলে পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষা না পাওয়ার কারণে মেধা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় মেধাগুলো ঝড়ে পড়ে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও রাষ্ট্রকে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই শিক্ষকরা হবেন আমাদের শিক্ষার্থীদের পিতামাতার বিকল্প। শিক্ষার্থীদের মানুষ করার জন্য তারা হবেন কারিগর। আমাদের সঠিক কারিকুলাম, শিক্ষক, শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা শিক্ষার ক্ষেত্রে সব হারিয়ে এখন সর্বহারা জাতি হয়েছি। সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
আমিরে জামায়াত বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধায়, যোগ্যতায় এবং চরিত্রবান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবো। আমরা চাই সৎ, দক্ষ ও বুদ্ধিমান নাগরিকদের হাতে আগামীর বাংলাদেশটা উঠে যাক।
তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে যে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও অসততার প্রতিযোগিতা চলছে— আমরা চাই এটির কবর রচনা হোক। ইনশাআল্লাহ, আমাদের শিক্ষার্থীরা পারবে, পারতে হবে। জাতিকে হারানো যাবে না, জাতিকে জিততে হবে। এজন্য শিক্ষার্থীদের তৈরি হতে হবে।
বিএইচ