
ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেইন কারেন্সি ট্রেডিংকে একসঙ্গে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ফরেইন কারেন্সি ট্রেডিং নিয়ে নীতিমালার বিষয়ে আলোচনা হলেও ক্রিপ্টোকারেন্সিকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ করার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ফরেইন কারেন্সি ট্রেডিং দুটি আলাদা বিষয়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ফরেইন কারেন্সি ট্রেডিং নিয়ে খুব দ্রুত কোনো নীতিমালা করার পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ফরেইন কারেন্সি ট্রেডিংকে কোনো না কোনোভাবে নীতিমালার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সির বিষয়ে তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে যে মূল সমস্যাটি রয়েছে, তা হলো এটি রাষ্ট্রের প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থাকে পাশ কাটানোর উদ্দেশে তৈরি হয়েছে। এ কারণে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ করার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ক্রিপ্টো ট্রেডিং নিয়ে নীতিমালা করা এবং সেটিকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ করা এক বিষয় নয়। ফরেইন কারেন্সি ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে নীতিমালা করার সুযোগ থাকতে পারে, কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সির বিষয়টি একইভাবে দেখলে চলবে না।
এর আগে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং এর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টির বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়েই প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে খুব দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত একটি ফোন ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ে ব্যবহৃত হয়-এমন একটি দাবি প্রসঙ্গেও প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এটি একটি অযাচাইকৃত তথ্য। কোনো ফোনে ক্যামেরা বা অন্য কোনো প্রযুক্তি থাকলেই সেটি নির্দিষ্ট কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
তিনি এ ধরনের অযাচাইকৃত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচার না করার বিষয়ে সতর্ক করেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে রাষ্ট্রীয় অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিষয়টির মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। একইসঙ্গে ফরেইন কারেন্সি ট্রেডিংয়ের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে গুলিয়ে না ফেলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
এএ