

টানা বর্ষণে সোমবার চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশেপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট হাটু থেকে কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও পাহাড়ি ঢলের পানি গলা সমান উচ্চতায় উঠে যায়।
নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ১২ ওয়ার্ডের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। সাতকানিয়ার কেরানিহাট ও বান্দরবানের রাস্তায় কোমর সমান পানি উঠে পড়ায় সোমবার চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রামের হাটহাজারি উপজেলার ফরহাদাবাদে পাহাড় ধসে একটি বাড়ির গোয়ালঘর বিধ্বস্ত হয়। তবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ভারিবর্ষণে প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে, সিডিএ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, জেলা পুলিশ লাইন ও আশেপাশের এলাকা, আগ্রাবাদ সরকারি কর্মভবন-১ ও সরকারি কর্মভবন-২ এলাকা, আগ্রাবাদ রাঙ্গিপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, ঢেবারপাড়, কমার্স কলেজ এলাকা, আগ্রাবাদ জাম্বুরি ময়দান, আগ্রাবাদ শিশু হাসপাতাল ও আশেপাশের এলাকা, হালিশহর আনাবিক এলাকার বি ব্লকসহ কয়েকটি এলাকা, ফইল্লাতলি, সাগরিকা রোড, নাসিরাবাদ সিডিএ এভেনিউ, নাসিরাবাদ হাউজিং এস্টেট, প্রবর্ত্তক মোড়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে ও আশেপাশের এলাকা, গোসাইলডাঙ্গা, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চান্দগাঁও হামিদচর, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, চান্দগাঁও হামিদচর, চান্দগাঁও খাজা রোড, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর মোড় আশেপাশের এলাকা, শোলকবহর, খতিবেরহাট, চকবাজার ও আশেপাশের এলাকা।
সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে ২০০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সৈয়দা মিমি পারভিন।
তিনি জানান প্রবল মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের কারণে মঙ্গলবারও ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশংকা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সারাদিন লাইটারেজ জাহাজগুলো প্রবল বৃষ্টির কারণে যেতে না পারায় মাদার ভেসেল থেকে পণ্য লাইটারেজ কার্যক্রম বন্ধ থাকে। জেটিতে শিপমেন্ট, লোডিং-আনলোডিং এবং পণ্য ও কন্টেইনার ডেলিভারি কমে যায়। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের একটি সূত্র জানায় প্রবল বর্ষণের কারণে বিমান বন্দরে বিভিন্ন ফ্লাইটের সিডিউলে ব্যাপক হেরফের ঘটে। বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।