
আজকের ঘটনা:
বৃষ্টি পড়ছে গুটিগুটি।হুট তোলা রিকশার সামনের অংশও প্রায় ঢাকা।কাঁচাপাকা দাঁড়িওয়ালা রিকশাওয়ালা এদিক ওদিক লাজুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বিরস বদনে ধীর প্যাডেলে রিকাশা চালাচ্ছে।আমি পাশের রিকশার একক যাত্রী।রিকশাটি থেকে খিলখিল হাসির শব্দ শুনা যাচ্ছে।দু'একটি শব্দ ও সংক্ষিপ্ত বাক্যও!-যা দুষ্ট, কি করছো,ভালো হবে কিন্তু...পান্থপথের সিগন্যালে রিকশা থেমে যায়! থেমে যায় কথা হাসি! নেমে যায় যাত্রী!!
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে রিকশাওয়ালা বলে-কি জামানা আইলো?হায়া শরম দেশ থেইক্কা চইলা গেছে....!
গত সোমবারে (১৭ জুলাই ২০১৭) প্রকাশিত ঘটনা:
‘লোকটির নাম হামিদ সরকার। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। গ্রামের বাড়ি জামালপুরে। স্থায়ী ভাবে থাকতেন উত্তরায়। উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরে তার নিজস্ব বাড়ি আছে যা ছেলেদের নামে দিয়েছেন।সারা জীবন সরকারি চাকরি করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে কতই না ঘাম ঝরিয়েছেন। তাদের নামে লিখে দিয়েছেন ফ্ল্যাট-বাড়িটিও। এরপরই যত বিপত্তি। একটা সময় বুঝতে পারেন বাবা, সন্তানদের ঘরে তিনি ‘জঞ্জাল’হয়ে উঠছেন। অবশেষে সন্তানরাই তাকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন। এক পর্যায়ে ধুঁকে ধুঁকে সেই বাবা মারা যান হাসপাতালে।হাসপাতাল থেকে লাশ নেয়ার জন্য সন্তানকে খবর দিলে ‘জরুরি মিটিংয়ে আছেন’ জানিয়ে লাশটি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে দিয়ে দিতে বলেন!:'(
কয়দিন আগের ঘটনা:
২২ জুলাই ২০১৭ ইং রাত ১টা ৫৮ মিনিটে প্রকাশিত ইউটিউবে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।একটা মেয়ে কেঁদে কেঁদে(কান্নার অভিনয় হয়তো) নিজ পিতার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনসহ নানান অভিযোগ এনেছে সেই ভিডিওটিতে। পরের দিন ঐ মেয়ের ভাই মেয়েটির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগের ভিডিও প্রকাশ করে! বাপ-মেয়ে-ছেলে, বাবা-ভাই-বোন এই তিনটি পবিত্র সম্পর্কতে ওরা কালিমা লাগায় অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে! বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ তা দেখেছে নানান ভাবে(?)
অতিসাম্প্রতিক সময়ের তিনটি ঘটনা উল্লেখ করলাম মাত্র। এমন ঘটনা আমাদের চারপাশে ইদানিং হরহামেশাই ঘটছে(?)। হ্যাঁ, ঘটছে। কিছু প্রকাশিত হচ্ছে, কিছু ঘটনা থেকে যাচ্ছে লোক চক্ষুর অন্তরালে...
এবার ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন। অতীত স্মৃতি মনে করুন। বিবেককে প্রশ্ন করুন। এক যুগ আগেও কি আমাদের সমাজে এমন ঘটনা কল্পনা করা যেত? কেন আজ আমাদের এই অধ:পতন? আমাদের তরুণ সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে? তারা কাদেরকে আদর্শ(আইডল) হিসেবে অনুসরণ করছে(?)
আপনি কোন সন্তানের বাবা/মা ?হ্যাঁ, আপনাকে বলছি- সর্তক ও সচেতন হোন।সন্তান কে ধর্ম ও নৈতিকতার শিক্ষা দিন ছোট থেকে।আপনি রিকশায় হুটতুলে চলাফেরা করা তরুণ/তরুণীর ভাই/বোন? হ্যাঁ, আপনাকে বলছি-আপনার প্রিয় ভাইবোনটির দিকে লক্ষ্য রাখুন।তাদের ধর্ম,কর্ম,দেশ প্রেম শিখান।ভালো বই পড়তে উৎসাহি করুন। আপনি স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে পড়েন? হ্যাঁ, আপনাকে বলছি-বন্ধু/বান্ধবী নির্বাচনে সতর্ক হোন।ঈমাম গাজ্জালীর বন্ধুনির্বাচনে যে যে গুণাবলীগুলো দেখতে বলেছে সেগুলো দেখুন।যে ধর্মেরই লোক হোন না কেন, স্বীয় ধর্মের আদেশ নিষেধ মেনে চলুন।আপনি শিক্ষক? হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি-এইডস থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বাঁচাতে কন্ডম বিতরণ নয় বই বিতরণ করুণ।যে বইয়ে লেখা থাকে সত্য ও সুন্দরের কথা, মনন ও সৃজনের কথা।মানবপ্রেম ও দেশ প্রেমের কথা।
আমাদের শত শত বছরের সম্মানজনক গৌরব-উজ্জ্বল সমাজ সংস্কৃতি রয়েছে।রয়েছে ভাষা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্ত লাল ইতিহাস।পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ,মানবিকতাবোধ,আতিথিয়তা,ভালোবাসা আমাদের অহংকার।কতিপয় বিকৃত মনা ও সমাজ বিধ্বংসী মানুষের বিকৃত কর্মে পুরো তরুণ সমাজ সামিল হোক তা আমরা চাইনা।ভারতীয় তথা ভিনদেশী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন,আকাশ সংস্কৃতির প্রচার ও প্রকাশ রুখে দিতে হবে একজোট হয়ে।হ্যাঁ, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে সকলকে আজ এই মুহুর্তে।আপনি কি এই সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত(?)
সূত্র: আলাউদ্দিন আদরের ফেসবুক।
সানবিডি/ঢাকা/আদর/এসএস