
ওমানের রাজধানী মাস্কাটে হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আর এরপরই দেশটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদিকে তারা সামরিকভাবে কোনো সহায়তা করবে না।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গতকাল একাধিক সংবাদমাধ্যমে হুথি ও মার্কিনিদের বৈঠকের তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, বৈঠকে হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করে লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেবে কোনো মার্কিন জাহাজে হামলা চালাবে না তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত বছর যুদ্ধবিরতির যে চুক্তি তারা করেছিল, সেটিও ভঙ্গ করার কোনো চিন্তা নেই বলে জানায় হুথিরা। আর এরপরই যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেয় সৌদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে কোনো সহায়তা করবে না।
হুথি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে তারা জানিয়েছেন, তারা লোহিত সাগরে শুধুমাত্র সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালাবে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই ইরানের সঙ্গে অত্যন্ত ব্যয়বহুল যুদ্ধে লিপ্ত আছে। তাই তারা আর কোনো নতুন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না।
অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ভাণ্ডারে টান পড়েছে। এ কারণেও হুথিদের বিরুদ্ধে তারা কোনো লড়াইয়ে আগ্রহী নয়।
২০২৫ সালের মার্চে হুথিদের যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু এরপরও দেশটির কর্মকর্তারা হুথি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরানের সঙ্গেও সরাসরি বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি আরবের সামনে এখন হুথিদের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের চাপ তৈরি হয়েছে। অথবা তারা তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
গত শুক্রবার দ্রুতগতির অভিযান চালিয়ে হুথিরা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে। এতে করে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই প্রণালি দিয়ে বহির্বিশ্বে নিজেদের তেল রপ্তানি করছিল সৌদি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিএইচ