
কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হতে পারবে। তবে এ সুবিধা নিতে হলে খেলাপি ঋণ, মূলধন, তারল্য ও ঋণসীমাসহ কয়েকটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত জুনে সিএমএসএমই খাতের জন্য ‘চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ নামে ৫ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল গঠন করে। এতদিন শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও এ সুবিধার আওতায় আনা হলো।
যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, তহবিল থেকে অর্থ পেতে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী নগদ জমা সংরক্ষণ অনুপাত (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ অনুপাত (এসএলআর) বজায় রাখতে হবে।
এছাড়া একক গ্রাহক ঋণসীমা-সংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে তিন বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে।
পাশাপাশি ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ও সামগ্রিক তারল্য ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকতে হবে।
উদ্যোক্তাদের ঋণ সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে
সিএমএসএমই খাতের চলতি মূলধনের সংকট মোকাবিলায় তিন বছর মেয়াদি এই তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শ্রমনির্ভর ও তুলনামূলক কম পুঁজিনির্ভর এই খাতে প্রয়োজনের তুলনায় চলতি মূলধনের জোগান কম থাকায় অনেক উদ্যোক্তা সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না।
উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করাই এই তহবিলের অন্যতম লক্ষ্য।
তহবিলের অর্থ ব্যাংক ও যোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে নিতে পারবে। পরে উদ্যোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সুদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রতি তিন মাসে পরিশোধ করতে হবে।
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা ও উইন্ডোও নিজস্ব শরিয়াহভিত্তিক কাঠামো অনুসরণ করে এ তহবিলের অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের বিনিয়োগ সুবিধা দিতে পারবে।
খেলাপি উদ্যোক্তারা পাবেন না সুবিধা
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে কোনো উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে এ তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া যাবে না।
তবে আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ নেওয়া উদ্যোক্তারাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নতুন তহবিলের সুবিধা নিতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তার প্রকৃত ঋণচাহিদা যাচাই করে নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থায়ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে।
থাকছে সর্বোচ্চ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড
তহবিলের আওতায় ঋণ নেওয়া উদ্যোক্তারা তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। এ সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শিডিউল অব চার্জেসের বাইরে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ফি, চার্জ বা কমিশন নেওয়া যাবে না।
নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যাংকের পাশাপাশি যোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের সুযোগ পেল। এর ফলে ব্যাংকখাতের বাইরে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের পরিধি বাড়বে।
তবে তহবিলের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য, খেলাপি ঋণ এবং ঋণসীমা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত মেনে চলতে হবে। ফলে তহবিলের অর্থ তুলনামূলকভাবে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর কাঠামো তৈরি হলো।
এএ