যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনা পণ্ড হওয়ায় তেলের দাম বাড়া এবং বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ড ২০০৭ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বাড়া এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রত্যাশার কারণে আগামী দিনে স্বর্ণের দাম আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। সুদহীন এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে এর দরপতন ঘটছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সোমবার স্পট গোল্ডের দাম ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১১ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন।
অনলাইন বুলিয়ন মার্কেটপ্লেস বুলিয়নভল্টের গবেষণা প্রধান অ্যাড্রিয়ান অ্যাশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের সুদের হার বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে অবশেষে স্বর্ণের দাম কমেছে।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া সম্পদে তুলনামূলক বেশি মুনাফা অর্জনের সুযোগ পান। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে অর্থায়নের ব্যয়ও বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের (সিএফটিসি) ২২ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণে মানি ম্যানেজারদের নিট লং পজিশন জুলাইয়ের শেষের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ওই সময় স্বর্ণের দাম ছিল প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ডলার।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলো থেকে ১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন স্বর্ণের বহিঃপ্রবাহ হয়েছে। তবে এসব ফান্ডে স্বর্ণের মজুত এখনও উল্লেখযোগ্য- ৪ হাজার ২৪৯ টন।
স্বর্ণের বাজারে চাপ বাড়ার আরেকটি কারণ চীনের চাহিদা কমে যাওয়া। শীর্ষ ভোক্তা দেশটিতে ১ থেকে ৭ অক্টোবরের ছুটির আগে চাহিদা দুর্বল হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ নাগাদ বৈশ্বিক বাজারের দামের তুলনায় স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের অতিরিক্ত মূল্যও শূন্যে নেমে আসে।
এনজে