
সশস্ত্র বাহিনীতে আগের আমলের মেশিনারিজ বা পুরাতন প্রযুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদিতে সজ্জিত করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদায়ন নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে কমিটি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির ১ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে সভাপতিত্ব করেন মো. আশরাফ উদ্দিন, এমপি। এতে অংশ নেন- কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, এমপি; হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এমপি; এস, এম জিলানী, এমপি; আব্দুস সালাম আজাদ, এমপি; রেজা আহাম্মেদ, এমপি; লুৎফুর রহমান, এমপি এবং মো. আব্দুল বাতেন, এমপি।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কমিটির সদস্যসহ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৫টি দপ্তর ও সংস্থার সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত চিত্র কমিটির সামনে উপস্থাপন করেন।
কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এর পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ দেশের ভেতর ও বাইরে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যদের প্রতিও বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। সভাপতি তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তাদের পরিবারের প্রতি ও আন্দোলনে আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরে সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার পর সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা নীতির উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান চিরস্মরণীয়। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের মতো তাৎপর্যপূর্ণ কাজে মরহুমা খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
চলতি মেয়াদের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে এবং সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে বেশ কিছু গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বহুমাত্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাহিনীর কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এক দক্ষ ও আধুনিক শক্তিতে রূপান্তরের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
বৈঠকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে সেনাবাহিনী। সেনাসদস্যদের মাধ্যমে নির্মাণাধীন বিভিন্ন অবকাঠামোতে সাশ্রয়ী শক্তি বা 'সেভ এনার্জি' নিশ্চিত করার মাধ্যমে অর্থ সাশ্রয় বা 'সেভ মানি' পরিকল্পনার বিষয়টি কমিটিকে অবহিত করা হয়। জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও বাজেট ব্যবহারে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকের সমাপনী আলোচনায় কমিটির সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনী সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করবে এবং এই বাহিনী সর্বদা জনগণের স্বার্থে ও দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএইচ