হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে চলাচলকারী বাস মৌলভীবাজারে আটক এবং পরিবহন শ্রমিকদের নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান-দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের চালক ও শ্রমিকদের মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা শেরপুরে আটক করে গাড়ি ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের মারধর করে আসছেন। এখন তারা আমাদের ৩টি গাড়ি নিজেদের কার্যালয়ের সামনে নিয়ে আটকে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও তারা সিদ্ধান্ত মানছে না। এ অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। আজ থেকে জেলার কোনো সড়কে কোনো ধরনের গণপরিবহন চলাচল করবে না। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে। আমরা গত মঙ্গলবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের নিকট একটি স্মারকলিপিও দিয়েছি।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সঙ্গে মৌলভীবাজার এসএমএম পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা হবিগঞ্জের বাস মৌলভীবাজারের ওপর দিয়ে চলাচলে বাঁধা দেন। বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে হবিগঞ্জের ওপর দিয়ে মৌলভীবাজারের কোনো বাস চলাচলেও বাঁধা দেওয়া হয়। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের মালিক ও শ্রমিকরা শায়েস্তাগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
তিনি আরও জানান- গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ এমপি'র নেতৃত্বে ৫ জন এমপিসহ প্রশাসনের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এক সমঝোতা বৈঠকে দু’পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তিও করা হয়। কিন্তু গত ১১ সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে ৩টি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস মৌলভীবাজারে পৌঁছালে বাসগুলো আটক করা হয়। এর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।
এনজে