
আদালতের আদেশ অমান্য করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ি এলাকার ৬২৮.৮৯ শতাংশ সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫০-৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সম্পত্তিতে প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সাগর-রুনি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও মোঃ আবদুর রহিম ভূঞা। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, ঘটনার তদন্ত এবং শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবদুর রহিম ভূঞা বলেন, আলোচ্য ৬২৮.৮৯ শতাংশ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছে। কোম্পানির কাছে সম্পত্তির মালিকানার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও রেকর্ড রয়েছে। সম্পত্তির একটি অংশে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সেখান থেকে কোম্পানি ভাড়াও পেয়ে আসছে।
তার অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনৈক আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল হঠাৎ ওই সম্পত্তির ওপর দাবি উত্থাপন করেন। কোম্পানির দাবি, তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাই হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
ভারপ্রাপ্ত সিইও বলেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। হাইকোর্ট বিভাগের গত ২৯ জুলাই ২০২৬ সালের আদেশ অনুযায়ী রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তির বিষয়ে স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু ওই আদেশের পরও গত ২০ সেপ্টেম্বর কোম্পানির নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সম্পত্তিতে প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় আরও একটি জিডি করা হয়।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুর রহিম ভূঞা বলেন, একাধিকবার অবহিত করা এবং দুটি জিডি করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি এ ঘটনাকে পুলিশের ‘চরম নিষ্ক্রিয়তা’ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আদালতের আদেশ কার্যকর করা, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত, শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকার জবাবদিহি নিশ্চিত করা, কোম্পানির বৈধ সম্পত্তি ও গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষায় প্রশাসনিক ও আইনি নিরাপত্তা এবং সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করে কোম্পানির শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা।
আবদুর রহিম ভূঞা বলেন, “আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিচার বা রায় চাইছি না। আমরা চাই, সাংবাদিকরা দলিলপত্র, আদালতের আদেশ, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন।”
তিনি আরও বলেন, জীবনবীমা কোম্পানির সম্পদ শুধু প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়, এর সঙ্গে পলিসিহোল্ডার, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ জড়িত। তাই বৈধ সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিএইচ