
সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতি চেষ্টার খবরকে ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)। সংগঠনটির দাবি, প্রকাশিত ঘটনার সঙ্গে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামান খান পপুল এসব কথা বলেন।
টোয়াসের ভাষ্য, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে একটি সন্দেহজনক নৌযান চলাচলের খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তবে ওই নৌযানের সঙ্গে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারও দেননি।
সংবাদ সম্মেলনে টোয়াস জানায়, রাত ৯টার দিকে স্থানীয় জেলেরা সন্দেহজনক একটি নৌযান চলাচলের খবর দেন। পরে বন বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।
আলোচনায় আসা ‘ওয়েব কুইন’ ও ‘আরএনজি’ জাহাজের প্রসঙ্গ তুলে টোয়াসের সদস্য তাকির বলেন, ঘটনার রাতে তাদের জাহাজে ৪৫ থেকে ৫০ জন পর্যটক ছিলেন। রাত ১১টার দিকে পশুর নদীতে পৌঁছানোর সময় অন্য একটি জাহাজ থেকে তাদের কাছে কোনো বিপদে পড়েছেন কি না বা গুলির শব্দ শুনেছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। তবে তারা কোনো গুলির শব্দ, চিৎকার বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি টের পাননি।
তিনি বলেন, ওই সময় আশপাশে অনেক জেলে নৌকা ও মাছ ধরার ট্রলার ছিল।
টোয়াস নেতারা বলেন, সুন্দরবনের পেরিফেরি এলাকায় স্থানীয় জেলে ও দস্যুদের মধ্যে বিরোধ বা সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব ঘটনায় বন বিভাগের সদস্যরা নিয়মিত ব্যবস্থা নেন। তবে এ ধরনের ঘটনাকে পর্যটনকেন্দ্রিক নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সুন্দরবন নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।
তারা বলেন, দুই থেকে তিন দশক ধরে তারা সুন্দরবনে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পর্যটকবাহী জাহাজে বন বিভাগের সদস্য ও নিরাপত্তারক্ষীরা থাকেন এবং রাতে সাধারণত বন বিভাগের কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করেন।
টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামান খান পপুল বলেন, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, সুন্দরবনের পর্যটনের সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতি ও দেশের পর্যটন ভাবমূর্তি জড়িত। তাই কোনো ঘটনা প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
বিএইচ