মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্ষেপ করে বলেছেন, আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি, আরও দুটি সংঘাতের অবসান ঘটানোর কাছাকাছি রয়েছি ও ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তিসহ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। এত কিছুর পরও আমাকে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি!
শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইকে চলতি বছরে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি নিজের এসব কূটনৈতিক সাফল্যের তালিকাও তুলে ধরেন।
পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, আমি আটটি যুদ্ধ মীমাংসা করেছি, আরও দুটি সংঘাতের অবসান ঘটাতে বা মীমাংসা করার কাছাকাছি রয়েছি। ইসরায়েলের সব জিম্মিকে ফিরিয়ে এনেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত জিম্মিকে মুক্ত করে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় একটি যুদ্ধে জয়ী হয়েছি ও দেশটির সহিংস স্বৈরশাসককে আটক করেছি। সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকেও থামিয়েছি। আরও অনেক কিছু করেছি। এত কিছুর পরও আমি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলাম না।
ট্রাম্পের এসব বক্তব্য তার নিজের দাবি। সংঘাতগুলোর সব কটির অবসানে তার ভূমিকা কতটা ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কয়েকটি সংঘাতের উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা ও শান্তির প্রসারে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানায় কমিটি।
এর পরপরই পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, এই সেই নারী, যিনি ‘মহান যুক্তরাষ্ট্রের’ পরিবর্তে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। এই নারী সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, আর অন্য কেউও জানে না!
পিল্লাই সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, তার জানা মতে, ইসরায়েলের প্রতি বিদ্বেষ থাকার কারণেই কেবল ওই নারী পরিচিত। তিনি দাবি করেন, ভারত-পাকিস্তানসহ আটটি সংঘাতের মীমাংসায় তার ভূমিকা নোবেল পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতেরও সমাধান অথবা বিজয় অর্জনের কাছাকাছি রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প যে আটটি সংঘাতের অবসান ঘটানোর দাবি করেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, কসোভো-সার্বিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র-রুয়ান্ডা, ভারত-পাকিস্তান, ইসরায়েল-ইরান, মিসর-ইথিওপিয়া, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান ও ইসরায়েল-হামাসের সংঘাত। এসব ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ও সংঘাতগুলোর প্রকৃত অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে।
নোবেল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়, ব্যতিক্রমী সাহস ও সততার সঙ্গে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছেন পিল্লাই। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে বর্ণবাদী শাসনামলে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেন পিল্লাই। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি বর্ণবৈষম্য, বিভাজন ও কাঠামোগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করেন। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিচারকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। সূত্র: এএনআই
বিএইচ