চাঁদা না দিলে পাইকারী মার্কেটে আগুন দেওয়ার হুমকির ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং চাঁদাবাজ জুয়েল আহমেদকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেফতারের পর পিবিআই গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) রকিবুল আক্তার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার চাঁদাবাজ জুয়েল আহমেদ জামালপুরের দেওয়াগঞ্জ উপজেলার কাঠারবিল গ্রামের সাদা মিয়ার ছেলে। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে ওইদিন দুপুরে আসামী জুয়েল আহমেদকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে উক্ত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
গাজীপুরে পাইকারী মার্কেটে চাঁদা দাবীর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা এ ঘটনায় চাঁদাবাজ জুয়েল আহমেদ‘কে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারের পর তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
মামলার তদন্তকা কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুর জেলার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা বলেন, গত ৬ অক্টোবর (বুধবার) বিকাল ৫ টা ১৯ মিনিটে বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা হাজী আব্দুর রহিম পাইকারী মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলটন হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন দিয়ে অজ্ঞাত আসামী তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অজ্ঞাত আসামী তার সহযোগীদের সহায়তায় হাজী আব্দুর রহিম পাইকারী মার্কেট পুড়িয়ে ফেলাসহ সুযোগ পেলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। অজ্ঞাত আসামীরা মার্কেটে যেকোনো সময় আগুন দিয়ে ক্ষতি সাধন করতে পারে। এমন আশঙ্কায় মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলটন হোসেন ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) বাসন থানার মামলা (নং-১০) দায়ের করেন।
প্রসঙ্গত, বিগত ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর উক্ত হাজী আব্দুর রহিম পাইকারী কাপড়ের মার্কেটে অগ্নিকান্ডে ভষ্মীভূত হয়। ওই সময় অগ্নিকান্ডে মার্কেটটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং কয়েক হাজার কোটি টাকার মালামাল, নগদ টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। আসামী জুয়েল আহমেদ ওই অগ্নিকান্ডের কথা টেলিফোনে স্মরণ করিয়ে বাদীকে হুমকি দিয়ে বলে এরপর এ ধরনের অগ্নিকান্ড হলে এর চেয়েও বেশী ক্ষতি হতে পারে। অগ্নিকান্ডের হুমকি ও চাঁদাবাজীর হুমকির ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম আমলে নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় সোমবার (১২ অক্টোবর) স্ব-উদ্দ্যোগে মামলাটি অধিগ্রহন করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক চাঁদাবাজ জুয়েল আহমেদকে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এদিন দুপুরে আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
মামলার তদন্তকা কর্মকর্তা আরো জানান, আসামী জুয়েল আহমেদ বিগত সাড়ে পাঁচ বছর পোশাক কারখানায় চাকুরী করে আসছিল। সে ইতিমধ্যে ক্যাসিনো জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে। জুয়া খেলার কারনে আসামী পোশাক কারখানা ও এলাকার বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট হতে তিন লাখ টাকা ঋণ করে। ওইসব কারনে আসামী হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের সামনে সাইনবোর্ড থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলটন হোসেনের মুঠোফোনে ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে তাঁর মার্কেটে আগুন ধরিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। তিনি ভয়ে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকাশের মাধ্যমে আসামীকে তিন হাজার টাকা দেয়। পরে আসামী আবারও টাকা দাবী করলে শনিবার (১০ অক্টোবর) দুই হাজার টাকা দেয় এবং সোমবার (১২ অক্টোবর) আসামীকে ৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা ছিল।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) রকিবুল আক্তার বলেন, অগ্নিকান্ড জনিত আকস্মিক দুর্ঘটনা রোধে প্রতিটি মার্কেটে সর্তকতামুলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সফল অভিযানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে চাঁদাবাজীর মতো অপরাধকে আটকিয়ে দেয়া গেছে এবং সম্ভব্য নাশকতাকেও রুখে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
এনজে