
রাজধানীর বনশ্রীতে গৃহকর্মী লাইলী আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতারকৃত গৃহকর্তা মইনুদ্দিনের বাসা থেকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার বিকালে খিলগাঁও থানার এসআই ও এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ মনজুর রহমান ওই বাসা থেকে ভিডিও ফুটেজ জব্দ করেন।
এ দিকে গতকাল সকালে লাইলির দাফন সম্পন্ন হয় তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে। তার স্বামী নজরুল ইসলাম ভারতের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। লাইলী ঢাকায় বনশ্রীর পার্শ্ববর্তী ভুঁইয়াপাড়া বস্তিতে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ বনশ্রীর জি-ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িটিতে সিসি ক্যামেরা ছিল। বাড়িটির মালিক মইনুদ্দিন। গতকাল ওই ভিডিও ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা হবে। সেখান থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। এখানে কিছু পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত শুক্রবার সকালে খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রীর ওই বাসার নিচ তলার একটি কক্ষ থেকে লাইলির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওই এলাকা। পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বস্তিবাসীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অর্ধশতাধিক টিয়ার সেল ও লাঠিচার্জ করে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ লায়লিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আর গৃহকর্তার দাবি লাইলি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতেই নিহতের ভাশুর শহীদুল ইসলাম একটি মামলা করেন। অন্যদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় খিলগাঁও থানার এসআই মনজুর রহমান অর্ধ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।
বাড়ির মালিক মুন্সী মইনউদ্দিন ও তত্ত্বাবধায়ক তোফাজ্জল হোসেন টিটু তিনদিনের রিমান্ডে রয়েছে। অন্যদিকে একই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত গৃহকর্ত্রী শাহনাজকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এসআই মনজুর জানান, গত শনিবার শাহনাজকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মইনুদ্দিন-শাহনাজ দম্পতির এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা মইনুদ্দিন অবসরগ্রহণের পর নাসির গ্রুপে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই কর্মরত রয়েছেন। বনশ্রীর ওই বাড়িটিতে তিনি স্ত্রীসহ বসবাস করতেন।