
রফতানি খাতকে উৎসাহিত করতে তথ্য প্রযুক্তিসহ আরও পাঁচ খাতে নতুন করে নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া বিদ্যমান ২২ খাতের মধ্যে চার খাতে নগদ সহায়তার হার বাড়ানো হয়েছে। ১ জুলাই থেকে রফতানির জন্য জাহাজিকৃত সব পণ্যের ওপর নতুন হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে এতদিন কোনো রফতানিকারকের বিল অপ্রত্যাবাসিত থাকলে ওই অর্থ ফেরত না আনা পর্যন্ত তাতে কোনো ধরনের রফতানি ভর্তুকি দেওয়া হতো না। তবে বুধবার অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে যৌক্তিক কারণে কারও রফতানির অর্থ না এলেও তাকে নগদ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা সফটওয়্যার, তথ্য প্রযুক্তি সেবা ও হার্ডওয়্যার রফতানির বিপরীতে এখন থেকে ১০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছর থেকে নতুন করে সিনথেটিক ও ফেব্রিক্সের মিশ্রণে তৈরি পাদুকা রফতানির বিপরীতে ১৫ শতাংশ, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস্্ ইনগ্রিডিয়েন্টস (এপিআই) রফতানিতে ২০ শতাংশ, অ্যাকুমুলেটের ব্যাটারি রফতানিতে ১৫ শতাংশ এবং নারিকেলের ছোবড়ার আঁশ দিয়ে তৈরি পণ্য রফতানিতে ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে হোগলা, খড়, আখের ছোবড়া ইত্যাদি দিয়ে হাতে তৈরি পণ্য রফতানিতে নগদ সহায়তার হার ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। আলু রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তরিত শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রাস্ট ও ফিনিশ্ড লেদার রফতানির বিপরীতে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। আর পাটজাত চূড়ান্ত পণ্য রফতানিতে সাড়ে ৭ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
গত অর্থবছরের মতো অন্যান্য পণ্য রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এবারও রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ৪ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা ৪ শতাংশ, নতুন পণ্য বা বাজার সম্প্রসারণ সহায়তা (আমেরিকা, কানাডা ও ইইউ ব্যতীত) ৩ শতাংশ, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতে রফতানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ৪ শতাংশের অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা ২ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। আগের মতো এবারও দেশে উৎপাদিত কাগজ ও কাগজ জাতীয় দ্রব্য রফতানিতে ১০ শতাংশ এবং আগর ও আতর রফতানিতে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। এ ছাড়া কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে ২০ শতাংশ, গরু-মহিষের নাড়ি-ভুঁড়ি, শিং ও রগ (হাড় ব্যতীত) রফতানিতে ১০ শতাংশসহ অন্যান্য পণ্যে আগের মতোই নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।